আফ্রিকার গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের পূর্ব-মধ্যাঞ্চলের ঘন অরণ্যে আবিষ্কৃত হয়েছে কলোবাস বানরের এক নতুন প্রজাতি। এর নাম রাখা হয়েছে ‘অরেঞ্জ-লিপড কলোবাস’, যেহেতু এদের ঠোঁট দুটির রং কমলা। স্থানীয় বালাঙ্গা ও মিতুকু জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরেই প্রাণীটিকে যথাক্রমে ‘লিকওয়েলি’ ও ‘কাসাবা এনকোনি’ নামে চিনত। লাজুক স্বভাব ও গাছের উঁচু মগডালে থাকার কারণে এটি খুব কমই মানুষের নজরে আসে। ২০০৮ সালে প্রথমবার এর ছবি তোলা হলেও প্রজাতিটিকে তখন শনাক্ত করা যায়নি। এক দশক পর, নাক ও ঠোঁটের উজ্জ্বল কমলা রঙের দাগযুক্ত একটি স্পষ্ট ছবি বিজ্ঞানীদের নজর কাড়ে। এরপর ১১৪টি সমীক্ষার পর্যবেক্ষণ, অবৈধ শিকার থেকে উদ্ধার হওয়া নমুনা এবং সংগ্রহশালায় সংরক্ষিত কলোবাস বানরের খুলি ও চামড়ার সঙ্গে তুলনামূলক বিশ্লেষণের মাধ্যমে এটিকে এক নতুন প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। প্রায় ১৫ পাউন্ড ওজনের এই বানরের মাথায় কালো লোমের মুকুট, কমলা রঙের নাক-ঠোঁট এবং পশ্চাদ্দেশে সাদা লোমের বৃত্ত রয়েছে, যা অন্য কলোবাস বানর থেকে একে আলাদা করেছে। মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ বিশ্লেষণে জানা গেছে, প্রায় ৫০ লাখ বছর আগে এটি তার নিকটতম আত্মীয় কলোবাস সেটানাস থেকে পৃথক হয়েছে। বর্তমানে এর বিস্তৃতি মাত্র ৬৫৬ বর্গমাইল এলাকা জুড়ে, যা মূলত কঙ্গোর উঁচু বনাঞ্চলে সীমাবদ্ধ। তাই বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, অদূর ভবিষ্যতে প্রজাতিটিকে ‘বিপন্ন’ হিসেবেও তালিকাভুক্ত করতে হতে পারে। গবেষকদের আশা, এই বিরল বানরের খাদ্যাভ্যাস, আচরণ ও প্রজনন সম্পর্কে ভবিষ্যৎ গবেষণা জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে নতুন তথ্য যোগ করবে।
সূত্র: PLOS ; July; 2026
