কাঁটায় কাঁটায় চলে যকৃতের জৈবঘড়ি

কাঁটায় কাঁটায় চলে যকৃতের জৈবঘড়ি

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ৩১ আগষ্ট, ২০২৬

মানবদেহের বিপাক বা মেটাবলিজম মানে শুধু কী খাচ্ছি বা কতটা ব্যায়াম করছি, তা নয়। বরং কখন এসব ঘটছে, সেটাই লক্ষ্যনীয় । যুক্তরাষ্ট্রের ইউ টি হেলথ সান আনটোনিও -র গবেষকরা দেখিয়েছেন, যকৃতের নিজস্ব জৈবঘড়ি বা সার্কাডিয়ান ক্লক দিনের নির্দিষ্ট সময়ে বিপাক নিয়ন্ত্রণকারী বিভিন্ন প্রোটিন নিঃসরণ করে। অর্থাৎ, আমাদের যকৃত একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনেই শরীরের অন্য অঙ্গগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে।

গবেষণাটির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়েছে নেচার কমিউনিকেশন্স জার্নালে। গবেষকরা বলেন , যকৃত থেকে নিঃসৃত বহু সংকেতবাহী প্রোটিন এলোমেলোভাবে রক্তে আসে না; এরা দিনের নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট পরিমাণে নিঃসৃত হয়। এসব প্রোটিন শরীরের অন্যান্য অঙ্গ, বিশেষ করে চর্বি বা ফ্যাট টিস্যু, কীভাবে শক্তি ব্যবহার ও সঞ্চয় করবে, তা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

বলতে গেলে মানবদেহের প্রায় প্রতিটি কোষেই একটি অভ্যন্তরীণ আণবিক ঘড়ি রয়েছে। এই ঘড়ি ঘুম, জাগরণ, হরমোনের কার্যকলাপ এবং বিপাক প্রভৃতি নানা প্রক্রিয়াকে ২৪ ঘণ্টার একটা বাঁধাধরা ছন্দে পরিচালনা করে। তবে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের সময় নির্দেশক কীভাবে পরস্পরের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে, তা এখনও পুরোপুরি জানা যায়নি। তবে এই নতুন গবেষণাটি ইতোমধ্যে সেই অজ্ঞাত বিষয় নিয়ে কিছুটা আলোকপাত করেছে।

অনিয়মিত সময়ে খাবার খাওয়া এবং ঘুমের সময়সূচি বারবার বদলে যাওয়ার সঙ্গে স্থূলতা, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন বিপাকীয় রোগের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার সম্পর্ক রয়েছে। যেহেতু যকৃত শরীরের বিপাক নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই এর সাময়িক ছন্দ নষ্ট হলে শরীরের অন্যান্য অঙ্গের কার্যক্রমও প্রভাবিত হতে পারে।

গবেষণাটিতে এন্ডোস্ট্যাটিন নামক একটি প্রোটিন নিয়ে বিশেষ কিছু তথ্য ফুটে উঠেছে। যকৃত থেকে স্বাভাবিক দৈনিক ছন্দ মেনে এন্ডোস্ট্যাটিন নিঃসৃত হলে সেটি চর্বি ভাঙতে বেশি কার্যকর হয়। এর অর্থ, একই ধরনের কোনো চিকিৎসা বা ওষুধ দিনের ভিন্ন সময়ে দেওয়া হলে তার কার্যকারিতাও ভিন্ন হতে পারে।

গবেষকেরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে এই আবিষ্কার সময় বুঝে চিকিৎসা বা chronotherapy-র ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। অর্থাৎ, শুধু কোন ওষুধ ব্যবহার করা হবে তা নয়, দিনের ঠিক কোন সময়ে তা দেওয়া হবে, সেটিও চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। পাশাপাশি নতুন বিপাক-নিয়ন্ত্রণকারী প্রোটিন বা পেপটাইড আবিষ্কারের পথও খুলে যেতে পারে।

 

সূত্র : 2 June 2026, Nature Communications.DOI: 10.1038/s41467-026-73840-4

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

14 − 11 =