কাটা শরীর নিয়ে বেঁচে আছে সাগরশসা 

কাটা শরীর নিয়ে বেঁচে আছে সাগরশসা 

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ১৯ অক্টোবর, ২০২৬

 

সমুদ্রের এক অদ্ভুত প্রাণী ‘সি কিউকাম্বার’ বা সাগরশসা। শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরেও বেঁচে থাকে তার দেহের টুকরো। শুধু বেঁচে থাকাই নয়, দিব্যি বেড়েও ওঠে! তাও এক-দু’দিন নয়, টানা তিন বছরের বেশি। এমনই সব বিস্ময়কর তথ্য পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষকদের ভাষায়, এ যেন বাস্তবের ‘জম্বি’! কানাডার মেমোরিয়াল ইউনিভার্সিটি অব নিউফাউন্ডল্যান্ডের গবেষকরা ঠান্ডা জলের সাগরশসা ‘সোলাস ফ্যাব্রিসি’ প্রজাতির তিনটি প্রাণীর পা, দেহ ও শুঁড় থেকে ছোট ছোট টিস্যুর অংশ কেটে সমুদ্রের জলে রাখেন। সাধারণত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন টিস্যু বাঁচিয়ে রাখতে জীবাণুমুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন। অথচ জীবাণুতে ভরা সমুদ্রের জলেও টিস্যুগুলি শুধু টিকেই থাকেনি, নিজেদের গঠন বজায় রেখেছে, স্বাধীনভাবে নড়াচড়া করেছে, এমনকি নতুন কোষও তৈরি করেছে। গবেষণায় দেখা যায়, বিচ্ছিন্ন টিস্যুগুলিতে রোগপ্রতিরোধী কার্যকলাপ ও কোষের পুনর্গঠন চলতে থাকে। মুখ না থাকায় খাবার গ্রহণের সুযোগ নেই। বিজ্ঞানীদের ধারণা, সমুদ্রের জল থেকেই সরাসরি অ্যামিনো অ্যাসিড শোষণ করে পুষ্টি সংগ্রহ করছে টিস্যুগুলি। তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে গবেষণা চলে। গবেষণা শেষ হওয়ার সময়েও সেগুলি সক্রিয় ছিল। সাগরশসা একাইনোডার্ম গোষ্ঠীর প্রাণী। এই গোষ্ঠীর অনেক প্রাণীই হারানো অঙ্গ পুনরায় তৈরি করতে পারে। কিন্তু শরীর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন টিস্যু এত দীর্ঘ সময় ধরে নিজে নিজে বেঁচে থাকবে, এমনটা ভাবেননি গবেষকরাও। গবেষক র‍্যাচেল সিপলারের কথায়, “টিকটিকির লেজ কেটে গেলে নতুন লেজ গজাতে পারে, তা আমরা জানি। কিন্তু এখানে প্রশ্নটা যেন উল্টো, কাটা লেজ থেকেই কি নতুন টিকটিকি তৈরি হতে পারে?” যদিও বিচ্ছিন্ন টিস্যু থেকে এখনও সম্পূর্ণ নতুন সাগরশসা তৈরি হয়নি। তবে এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে ক্ষত সারানো, টিস্যুর পুনর্গঠন এবং জীবাণুর উপস্থিতিতেও সংক্রমণ প্রতিরোধের নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবনে সাহায্য করতে পারে।

 

সূত্র: “Natural tissue immortality: Indefinite survival of sea cucumber explants” by Sara Jobson, Emaline M. Montgomery, Jean-François Hamel, Rachel E. Sipler and Annie Mercier, 27 May 2026, Science Advances.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

sixteen − 10 =