কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে দুর্বলভাবে নিয়ন্ত্রণের বিপদ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে দুর্বলভাবে নিয়ন্ত্রণের বিপদ

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ৩ আগষ্ট, ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্রুত মানুষের জীবনের নানা ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়ছে। আর ততই বাড়ছে এর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ। তাই এর নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশ নতুন নতুন আইন ও নিয়ম প্রণয়নের চেষ্টা করছে। কিন্তু কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং কার্নেগি মেলন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের নতুন এক গবেষণা বলছে, পরিকল্পনা সঠিক না হলে এসব আইন উল্টে এ-কে আরও অনিরাপদ করে তুলতে পারে। PNAS-এ গবেষণাটির বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে।

এ আই তৈরির প্রক্রিয়ায় সাধারণত দুটি স্তর থাকে। প্রথম স্তরে একটি প্রতিষ্ঠান বড় আকারের সাধারণ উদ্দেশ্যসাধক এ আই মডেল তৈরি করে, যা পরবর্তীতে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যায়। এরপর অন্য একটি প্রতিষ্ঠান সেই মডেলকে চিকিৎসা, গ্রাহকসেবা বা আর্থিক বিশ্লেষণের মতো নির্দিষ্ট কাজের উপযোগী করে তোলে। গবেষকদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যদি নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইন শুধুমাত্র দ্বিতীয় স্তরের প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর প্রযোজ্য হয়, তাহলে অপ্রত্যাশিত একটি সমস্যা দেখা দিতে পারে। মূল এ আই মডেল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ধরে নেয় যে শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তার দায়িত্ব অন্য পক্ষের। ফলে তারা নিজেরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যাপারে কম বিনিয়োগ করতে শুরু করে। অর্থনীতির ভাষায় এই আচরণকে বলা হয় “ফ্রি-রাইডার সমস্যা”—অর্থাৎ অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে নিজের দায়িত্ব কমানো। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এমন পরিস্থিতিতে পুরো এ আই ব্যবস্থার নিরাপত্তা আগের চেয়েও কমে যেতে পারে। অর্থাৎ, যে আইন মানুষের সুরক্ষা বাড়ানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে, সেটিই ভুলভাবে প্রয়োগ হলে উল্টো ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।

তবে আশার কথা হল, যদি নিরাপত্তা সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা এ আই মডেল নির্মাতা এবং সেই মডেলের ব্যবহারকারী বা উন্নয়নকারী—উভয় প্রতিষ্ঠানের ওপরেই সমানভাবে প্রযোজ্য হয়, তাহলে নিরাপত্তা যেমন বাড়বে, তেমনি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও পারস্পরিক আস্থা তৈরি হবে। এতে কোনো পক্ষই নিরাপত্তার দায় অন্যের ওপর চাপিয়ে দিতে পারবে না, সকলেই নিরাপদ এ আই তৈরিতে বিনিয়োগ করায় উৎসাহিত হবে। এছাড়াও দেখা গেছে, অনেক সময় প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপত্তা বাড়াতে আগ্রহী হলেও একে অপরকে পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারে না। কার্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলে সেই অনিশ্চয়তা দূর হবে, এবং নিরাপত্তা ও ব্যবসায়িক স্বার্থ, দুই দিকেই ইতিবাচক ফল এনে দিতে পারবে। এ কারণেই বিশ্বের কিছু বড় বড় এ আই প্রতিষ্ঠানও এখন স্পষ্ট ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার পক্ষে মত দিচ্ছে।

বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এ আই বিধিসহ বিভিন্ন দেশে এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে গবেষকদের মতে, শুধু কঠোর আইন করলেই হবে না; আইনটি কার ওপর প্রযোজ্য হবে এবং দায়িত্ব কীভাবে ভাগ করা হবে, সেটিই ভবিষ্যতের এ আই নিরাপত্তা নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে নিরাপদ রাখতে হলে শুধু শেষ ধাপের ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানকেই নয়, মূল প্রযুক্তি নির্মাতাদেরও সমানভাবে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় দুর্বল ও একতরফা নিয়ন্ত্রণ ভবিষ্যতের এ আইকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে।

সূত্র: Earth.com https://share.google/3QY9MrIWzhD94tAtP

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

six − 1 =