কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবার প্রাণীদের যোগাযোগের রহস্য উন্মোচনের পথে। উন্নত মেশিন লার্নিং প্রযুক্তির সাহায্যে বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন প্রাণীর ডাক, শব্দ ও সংকেত বিশ্লেষণ করে তাদের বার্তার অর্থ বোঝার চেষ্টা করছেন। দীর্ঘদিন ধরেই জানা ছিল যে প্রাণীরা শব্দ, অঙ্গভঙ্গি ও দৃশ্য সংকেতের মাধ্যমে যোগাযোগ করে। তবে সেই জটিল বার্তা বিশ্লেষণ করা মানুষের পক্ষে কঠিন ছিল। কৃ বু এখন লক্ষ লক্ষ অডিও ও ভিডিও রেকর্ডিং বিশ্লেষণ করে ধ্বনির গঠন, ব্যবহার ও অর্থের সম্ভাব্য ধরণ খুঁজে বের করছে। সম্প্রতি আফ্রিকান ডোরা কাটা ইঁদুরের ১ লক্ষ ২২ হাজারেরও বেশি অতি স্বনক ডাক বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন, প্রতিটি বসতির নিজস্ব স্বরধারা রয়েছে। এমনকি আলাদা আলাদা ইঁদুরেরও আলাদা আলাদা ‘কণ্ঠপরিচয়’ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। ডলফিনদের বিশেষ ধরনের শিস, স্পার্ম তিমির ‘ক্লিক কোডা’, পাখিদের সংকেতের সমন্বয়, শিম্পাঞ্জিদের মিলিত ডাক এবং কাটলফিশের রঙ পরিবর্তনের মাধ্যমে বার্তা বিনিময় —সব ক্ষেত্রেই কৃ বু নতুন তথ্য সামনে আনছে। এসব থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে অনেক প্রাণীর যোগাযোগ ব্যবস্থা আগে যা ধারণা করা গিয়েছিল তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল। এই গবেষণার অগ্রভাগে রয়েছে আর্থ স্পিসিজ প্রজেক্ট এবং সিইটিআই (সিটাসিয়ান ট্রান্সলেশন ইনিশিয়েটিভ) প্রভৃতি উদ্যোগ। তারা বৃহৎ ভাষা মডেল-অনুপ্রাণিত নিউরাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে প্রাণীদের সংকেত ও আচরণের মধ্যে সম্পর্ক খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। বিজ্ঞানীদের আশা, ভবিষ্যতে এমন প্রযুক্তি তৈরি হতে পারে যা প্রাণীদের বার্তা মানুষের কাছে অনুবাদ করে পৌঁছে দেবে। যদিও মানুষ ও প্রাণীর মধ্যে সরাসরি কথোপকথনের যুগ এখনও অনেক দূরে, তবু কৃ বু ইতিমধ্যেই প্রাণীজগতের যোগাযোগ সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে বদলে দিতে শুরু করেছে।
সূত্র; Science Acumen; June ; 2026
