ক্যানসার চিকিৎসায় স্ট্যানফোর্ডের প্রোটন থেরাপি 

ক্যানসার চিকিৎসায় স্ট্যানফোর্ডের প্রোটন থেরাপি 

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ২২ এপ্রিল, ২০২৬

ক্যানসার চিকিৎসার প্রযুক্তিকে দীর্ঘদিন জটিল, বিশাল ও ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতির উপর নির্ভরশীল ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হয়েছে। সেই ধারণায় বড় পরিবর্তন আনল স্ট্যানফোর্ড মেডিসিন। তারা চালু করেছে নতুন প্রোটন থেরাপি কেন্দ্র। আগের বিশাল কাঠামো ছাড়া সম্ভব নয় বলে গণ্য প্রযুক্তি এখন বসেছে সাধারণ হাসপাতালের একটি কক্ষে। এটি শুধু নতুন যন্ত্র স্থাপনের ঘটনা নয়। এ হল ক্যানসার চিকিৎসাকে আরও সুলভ, নির্ভুল ও মানবিক করার পথে বড় পদক্ষেপ। এতদিন রেডিওথেরাপিতে এক্স-রে ব্যবহার করা হতো। তার বিকিরণ টিউমারে আঘাত করলেও কিছু সুস্থ কোষও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কিন্তু প্রোটন থেরাপির পথ ভিন্ন। এতে ব্যবহৃত হয় প্রোটন-পরমাণুর কেন্দ্রে থাকা ধনাত্মক চার্জযুক্ত কণা। এগুলোকে এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, যাতে নির্দিষ্ট গভীরতায় গিয়ে সর্বোচ্চ শক্তি ছেড়ে এরা থেমে যায়। ফলে টিউমার ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কিন্তু আশপাশের সুস্থ কোষকলা তুলনামূলকভাবে সুরক্ষিত থাকে। এতকাল প্রোটন তৈরি করতে দরকার পড়ত সাইক্লোট্রন। রোগীর চারপাশে ঘুরে বিভিন্ন কোণ থেকে রশ্মিগুচ্ছ পাঠাতে লাগে গ্যান্ট্রি নামের বড় কাঠামো। এসব বসাতে আলাদা বহু-তল ও বিপুল অর্থের প্রয়োজন হতো। তাই খুব কম হাসপাতালেই এই সুবিধা ছিল। কিন্তু স্ট্যানফোর্ডের নতুন কেন্দ্রে ব্যবহার করা হয়েছে অতিক্ষুদ্র এস২৫০-ফিট প্রোটন সিস্টেম। তবে আসল পরিবর্তন এসেছে চিকিৎসা দেওয়ার পদ্ধতিতে। এখানে বিশাল গ্যান্ট্রির বদলে রোগীকে বসানো বা সোজা অবস্থায় রাখা হয়। রোগী ধীরে ধীরে ঘোরেন, আর প্রোটন রশ্মিগুচ্ছ থাকে স্থির। এই “আপরাইট রেডিওথেরাপি’’ পদ্ধতিতে জায়গা ও খরচ দুটোই কমেছে। পুরো ব্যবস্থাটা বসেছে মাত্র ১,২০০ বর্গফুটের একটি সাধারণ রেডিওথেরাপি কক্ষে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি তখনই সত্যিকারের সফল, যখন তা সবার জন্য ব্যবহারযোগ্য। প্রোটন থেরাপি এতদিন কিছু ধনী হাসপাতালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এখন সাধারণ হাসপাতালেও এটি বসানো গেলে আরও বেশি রোগী এ চিকিৎসা পাবেন। বিশেষ করে মস্তিষ্ক, চোখ, মেরুদণ্ড বা হৃদ্‌যন্ত্রের কাছাকাছি অঞ্চলের টিউমারের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের জন্যও এ প্রযুক্তি বড় আশার খবর। কারণ তাদের শরীর এখনও বেড়ে উঠছে, ফলে বিকিরণের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তাদের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। প্রোটন থেরাপিতে সুস্থ কোষকলায় কম বিকিরণ পৌঁছায়, তাই ভবিষ্যতের জটিলতা কম হওয়ার কথা স্ট্যানফোর্ড জানিয়েছে, সব নিরাপত্তা পরীক্ষা শেষ হলে শিগগিরই রোগীদের চিকিৎসা শুরু হবে। প্রথমে মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারে এটি প্রয়োগ করা হবে। পাশাপাশি ফুসফুস ক্যানসারেও “ফ্ল্যাশ’’ থেরাপির মতো নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে এর সম্ভাবনা পরীক্ষা করা হবে।

 

সূত্র: Physics World; April 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nineteen + sixteen =