ক্ষতচিহ্ন কেন থেকে যায়?

ক্ষতচিহ্ন কেন থেকে যায়?

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ১১ মে, ২০২৬

মানুষের শরীরে ক্ষত সেরে গেলেও যে দাগ থেকে যায়, তাকে আমরা ক্ষতচিহ্ন বা স্কার বলি। এই দাগ আসলে শরীরের এক বিশেষ প্রতিরক্ষা প্রক্রিয়ার ফল। যখন ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন শরীরের প্রথম কাজ হয় দ্রুত সেই ফাঁকখানা বন্ধ করার জন্য কোলাজেন নামক শক্ত প্রোটিন তৈরি করা। এই কোলাজেন আর অন্যান্য সংযোজক কলার ঘন স্তর মিলেই একটি ক্ষতচিহ্ন গঠন করে। তবে এই নতুন কোষকলা সাধারণ ত্বকের মতো নয়, এতে ঘর্মগ্রন্থি বা লোমকূপ থাকে না এবং কোষ পুনর্নবীকরণও কম হয়। ফলে ক্ষতচিহ্ন অনেক সময় দীর্ঘস্থায়ী, এমনকি চিরস্থায়ীও হতে পারে।

কখনও কখনও শরীর অতিরিক্ত কোলাজেন তৈরি করে ফেলে, যার ফলে দাগ বড় বা উঁচু হয়ে যায়। এই ধরনের দাগকে হাইপারট্রফিক স্কার বলা হয়। এ সাধারণত মূল আঘাতের জায়গাতেই সীমাবদ্ধ থাকে। তবে কিছু ক্ষেত্রে ক্ষতচিহ্ন মূল ক্ষতের সীমানা ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ে, সেগুলোকে ‘কেলয়েড স্কার’ বলা হয়। কেলয়েড ক্ষতচিহ্ন অনেক সময় চুলকানি বা ব্যথার কারণ হতে পারে। যদি এটি কোনো সন্ধির কাছে হয়, তাহলে চলাচলেও বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এমনকি অস্ত্রোপচার করে কেলয়েড সরালেও তা আবার আরও বড় আকারে ফিরে আসতে পারে।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অবশ্য ক্ষতচিহ্ন কিছুটা ফিকে হয়ে আসে এবং কোলাজেনের স্তরগুলো আরও সুশৃঙ্খলভাবে সজ্জিত হয়। তবুও এটি পুরোপুরি স্বাভাবিক ত্বকের মতো হয়ে ওঠে না। তাই পুরোপুরি সম্পূর্ণ মিলিয়ে যাওয়া খুবই বিরল। চিকিৎসকরা বিভিন্ন প্রসাধনী পদ্ধতি বা স্টেরয়েডের সাহায্যে ক্ষতচিহ্নর রঙ বা গভীরতা কিছুটা কমাতে পারেন, কিন্তু সম্পূর্ণ নির্মূল করা সাধারণত সম্ভব নয়।

ক্ষতচিহ্নর যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ক্ষতের সঠিক পরিচর্যা। ক্ষত পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি। যদি ক্ষত খোলা থাকে, তবে তা পরিষ্কার ব্যান্ডেজ দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। আর যদি ক্ষত শুকিয়ে আসে, তাহলে একটি পাতলা মলমের স্তর দিয়ে তা আর্দ্র রাখা ভালো। এতে জীবাণুর সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায় এবং নিরাময় প্রক্রিয়া দ্রুত হয়।

তবে ক্ষতচিহ্ন তো শুধু শারীরিক দাগ নয়, এটি আমাদের জীবনের অভিজ্ঞতার এক দৃশ্যমান স্মারকও বটে। ছোটবেলার খেলাধুলার আঘাত বা কোনো বিশেষ ঘটনার স্মৃতি এই দাগগুলো ।

 

 

সূত্র: Why scars never disappear?Scar tissue is built to protect, not vanish. PUBLISHED April 28, 2026 9:08 AM EDT, published in popular science.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × 4 =