ড. রবিন টিমিস ইনস্টিটিউট অব ফিজিক্স-এর ‘কালহাম থিসিস প্রাইজ’ পেয়েছেন। এই পুরস্কার প্রতি বছর এমন গবেষণাকে দেওয়া হয়, যেখানে বিষয়ের গভীর উপলব্ধি, পরিষ্কার ব্যাখ্যা এবং নতুন চিন্তার ছাপ থাকে। রবিনের গবেষণার বিষয় ছিল ‘অ্যাটোসেকেন্ড’ সময়মাত্রায় (এক সেকেন্ডের বিলিয়ন ভাগেরও ক্ষুদ্র অংশ) লেজার ও প্লাজমার পারস্পরিক ক্রিয়া বিশ্লেষণ। সহজভাবে বললে, তিনি খুঁজেছেন কীভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী লেজার ব্যবহার করে আরও তীব্র ও ক্ষুদ্র সময়ের এক্স-রে আলোর ঝলক তৈরি করা যায়। ড. টিমিসের মতে, আমরা এখন ‘এক্সাস্কেল’ যুগের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। যেখানে সুপারকম্পিউটার ও লেজার প্রযুক্তি অভূতপূর্ব শক্তিশালী হয়ে উঠছে। এই উন্নতি ফিউশন শক্তি, ল্যাবে মহাকাশীয় ঘটনা তৈরি করা, উন্নত চিকিৎসা ইমেজিং, এমন বহু ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। কিন্তু সমস্যা হলো, বর্তমান প্রযুক্তিতে আমরা আলোর তীব্রতার একটি সীমায় পৌঁছে যাচ্ছি। তাই দরকার ছিল নতুন পথ। সেই
নতুন পথ খুঁজতে তিনি একটি অভিনব ধারণা পরীক্ষা করে দেখেন। একটি শক্তিশালী লেজারকে এমন একটি প্লাজমা পৃষ্ঠে ফেলা হল, যা অত্যন্ত দ্রুত গতিতে কাঁপছে। সেই পৃষ্ঠ থেকে তা প্রতিফলিত হয়ে খুব উজ্জ্বল অ্যাটোসেকেন্ড এক্স-রে তৈরি করতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় লেজারের শক্তি প্লাজমার মধ্যে কীভাবে ঢুকে যায় এবং সেখান থেকে ক্ষুদ্র কিন্তু তীব্র বিকিরণ তৈরি হয়, তা তিনি বিশ্লেষণ করেছেন। তার গবেষণায় তত্ত্ব, কম্পিউটার সিমুলেশন এবং বাস্তব পরীক্ষা- সবকিছুর মিশ্রণ রয়েছে। অরিয়ন লেজার প্রকৌশলে তিনি এক্স-রে হারমোনিকের তীব্রতা পরিমাপ করেন। পরে জেমিনি-তে আরেকটি বড় পরীক্ষা পরিকল্পনা করেন। সেটির ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আগের তুলনায় প্রায় হাজার গুণ বেশি উজ্জ্বল বিকিরণ তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। এই পদ্ধতি তড়িৎচুম্বক ক্ষেত্রের তীব্রতা বহু গুণ বাড়াতে পারে। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এত শক্তিশালী আলো তৈরি করা সম্ভব হতে পারে, যা সরাসরি কোয়ান্টাম ভ্যাকুয়াম পরীক্ষা করতে সাহায্য করবে।
সূত্র: University of Oxford; Dept. Of Physics ; April ; 2026.
