সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ায় আবিষ্কৃত একটি জীবাশ্মে কোটি কোটি বছর আগের সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খলের এক বিরল দৃশ্য ধরা পড়েছে। এই নব্য গবেষণাটির বিস্তারিত বিবরণ গন্ডোয়ানা রিসার্চ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এ এমন একটি ইকথিওসরের জীবাশ্ম যার পাকস্থলীতে যেমন তার শেষ আহারের প্রমাণ মিলেছে, তেমনি কঙ্কালে রয়েছে আরও শক্তিশালী এক শিকারির হামলার স্পষ্ট চিহ্ন। এই প্রথম একই জীবাশ্মে শিকারি ও শিকারের ধারাবাহিকতা সংরক্ষিত থাকার বিরল উদাহরণ সামনে এল।
২০১৯ সালে কুইন্সল্যান্ডে খননের সময় গবেষকেরা প্রায় ২০ ফুট দীর্ঘ ওই ইকথিওসরটির জীবাশ্ম উদ্ধার করেন। প্রাণীটি ক্রিটেশিয়াস যুগে অস্ট্রেলিয়ার বিস্তীর্ণ অংশ ঢেকে রাখা প্রাচীন এরোমাঙ্গা সাগরে বিচরণ করত। আধুনিক ত্রিমাত্রিক নিউট্রন টোমোগ্রাফির মাধ্যমে জীবাশ্মটির মাথার কাছে শক্ত হয়ে থাকা একটি পিণ্ড পরীক্ষা করে গবেষকেরা নিশ্চিত হন, সেটিই ছিল প্রাণীটির পাকস্থলীর সংরক্ষিত খাদ্য।
সেখানে মাছের হাড়, ঝিনুকের খোলস ও সেফালোপডের অবশেষের পাশাপাশি পাওয়া যায় একটি টেরোসরের চোয়ালের ভাঙা অংশ। তাজ্জব হয়ে যান বিজ্ঞানীরা। অর্থাৎ, ইকথিওসরটি কেবল সামুদ্রিক প্রাণীই নয়, জলভাগের কাছাকাছি উড়ন্ত একটি সরীসৃপকেও শিকার করেছিল। এটাই প্রথম জীবাশ্মভিত্তিক প্রমাণ, যেখানে কোনো সামুদ্রিক সরীসৃপের পাকস্থলীতে টেরোসরের দেহাবশেষ পাওয়া গেল।
গবেষকদের ধারণা, ইকথিওসরটি নিজেও শেষ রক্ষা পায়নি। এর কঙ্কালে বড় বড় কামড়ের দাগ, ভাঙা কশেরুকা ও অনুপস্থিত পাঁজর দেখে মনে হয়েছে, মৃত্যুর অনেকটা পরে নয়, হয়তো জীবদ্দশাতেই বা মৃত্যুর ঠিক পরপরই এটি কোনো মস্ত শিকারির আক্রমণের শিকার হয়েছিল। সেই শিকারি সম্ভবত ছিল ৪০ ফুটেরও বেশি লম্বা প্লিওসর ক্রোনোসরাস কুইন্সল্যান্ডিকাস। এটি ছিল সে সময়ের এরোমাঙ্গা সাগরের অন্যতম শীর্ষ শিকারি।
এককথায় বলতে গেলে প্রাগৈতিহাসিক সমুদ্রে খাদ্যশৃঙ্খল ছিল অত্যন্ত জটিল ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ। একদিকে ইকথিওসর আকাশে উড়ন্ত সরীসৃপ শিকার করছিল, অন্যদিকে মুহূর্তের মধ্যেই সে নিজেই আরও শক্তিশালী এক সামুদ্রিক দানবের খাদ্যে পরিণত হয়েছিল। এই একটি মাত্র জীবাশ্ম থেকেই বিজ্ঞানীরা কোটি বছর আগের শিকার-শিকারির সম্পর্কের বিরল প্রমাণ তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন।
সূত্র: https://www.sciencedirect.com/science/article/pii/S1342937X26001656
