গবেষণার জগতে এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এরই সঙ্গে বাড়ছে এক নতুন সমস্যা- ভুয়ো বা অস্তিত্বহীন গবেষণাপত্র থেকে উদ্ধৃতি। বিজ্ঞানীরা এগুলিকে বলছেন “কাল্পনিক উদ্ধৃতি”। অর্থাৎ, এআই এমন গবেষণাপত্র বা লেখকের নাম বানাচ্ছে, যাদের বাস্তবে কোনও অস্তিত্ব নেই। সম্প্রতি গবেষকরা প্রায় ২৫ লক্ষ গবেষণাপত্র ও প্রাক-প্রকাশ নিবন্ধ বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, শুধু ২০২৫ সালেই প্রায় ১ লক্ষ ৪৭ হাজার ভুয়ো উদ্ধৃতি ব্যবহার হয়েছে। মোট ১১ কোটিরও বেশি রেফারেন্স পরীক্ষা করা হয়েছিল। সমীক্ষায় দেখা গেছে, সমাজবিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার ভান্ডার ‘এসএসআরএন’-এ এই সমস্যার হার সবচেয়ে বেশি। সেখানে প্রায় ২ শতাংশ উদ্ধৃতিই ভুল বা অস্তিত্বহীন। অন্যদিকে পদার্থবিজ্ঞানভিত্তিক ‘আর্কাইভ’-এ এই হার ০.৩৯ শতাংশ এবং জীববিজ্ঞানভিত্তিক ‘বায়োআর্কাইভ’-এ ০.২১ শতাংশ। নিউ ইয়র্কের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ইয়ান ইন বলেন, “সমস্যার বহর দেখে তাঁরা বিস্মিত। সন্দেহ তৈরি হয় যখন তাঁরা পরিচিত গবেষকদের নামে এমন কিছু প্রবন্ধের উদ্ধৃতি দেখেন, যেগুলির বাস্তবে কোনও অস্তিত্বই ছিল না”। গবেষকরা বিভিন্ন উদ্ধৃতিকে অনলাইন গবেষণা-তথ্যভান্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন। যেগুলির কোনও খোঁজ মেলেনি, সেগুলিকে ভুয়ো উদ্ধৃতি হিসেবে ধরা হয়। তবে বিশ্লেষণে শুধু ২০২২ সালের পরের গবেষণাপত্র রাখা হয়েছে, কারণ ওই বছরই সাধারণের জন্য প্রথম বড় এআই ভাষা মডেল ‘চ্যাটজিপিটি’প্রকাশিত হয়। যেসব গবেষকের আগে প্রকাশিত কাজ কম, তাঁদের লেখায় ভুয়ো উদ্ধৃতির প্রবণতা বেশি। পাশাপাশি ভুল উদ্ধৃতিতে বেশি করে উঠে এসেছে প্রতিষ্ঠিত ও বহুল পরিচিত পুরুষ গবেষকদের নাম। বৈজ্ঞানিক নৈতিকতার বিশেষজ্ঞ এলিজাবেথ বিক মনে করেন, সমাজবিজ্ঞানের গবেষণাপত্র সাধারণত বেশি বর্ণনামূলক হওয়ায় সেখানে এআই দিয়ে লেখা তুলনামূলক সহজ। তবে ইতালির গবেষক Ioana A. Cristea সতর্ক করে বলেছেন, শুধু এই তথ্যের ভিত্তিতে সমাজবিজ্ঞানকে দোষ দেওয়া ঠিক হবে না। বিভিন্ন গবেষণা ভান্ডারের যাচাই প্রক্রিয়ার পার্থক্যও এর কারণ হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে গবেষণা প্ল্যাটফর্মগুলি এখন এআই-তৈরি ভুয়ো লেখা ঠেকাতে নতুন নিয়ম চালু করছে। তবে এখনও পর্যন্ত এআই-নির্ভর বিষয়বস্তু যাচাইয়ের কোনও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড তৈরি হয়নি।
সূত্র: doi: https:// doi .org / 10.1038/ d41586-026-01545-1
