গিজার মহাপিরামিড ও আলোর গতিবেগ 

গিজার মহাপিরামিড ও আলোর গতিবেগ 

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

শূন্যস্থানে আলোর গতিবেগ প্রতি সেকেন্ডে ২৯৯,৭৯২,৪৫৮ মিটার। আশ্চর্যের বিষয়, মিশরের গিজার মহাপিরামিডের মধ্য দিয়ে ২৯.৯৭৯২৪৫৮° উত্তর অক্ষাংশরেখা গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। দশমিক বিন্দুর অবস্থান বদলালে দুটি অঙ্ক হুবহু মিলে যায়। এই মিল থেকেই দাবি উঠেছে, প্রাচীন মিশরীয়রা কি তাহলে হাজার হাজার বছর আগেই আলোর গতিবেগ জানতেন?

 

খ্রিস্টপূর্ব ২৬০০ অব্দে ফ্যারাও খুফুর শাসনকালে নির্মিত এই মহা পিরামিড প্রাচীন মিশরীয়দের অসাধারণ জ্যামিতিক জ্ঞান, ভূমি জরিপ ও নির্মাণদক্ষতার পরিচয়বাহী। তবে তাঁরা আলোর গতিবেগ জানতেন, এমন কোনও প্রত্নতাত্ত্বিক বা বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

এই সংখ্যাগত মিলের রহস্য লুকিয়ে রয়েছে আধুনিক পরিমাপ পদ্ধতিতে। একক হিসাবে মিটারের প্রচলন শুরু হয় অষ্টাদশ শতকের শেষদিকে। সেকেন্ডের আধুনিক সংজ্ঞা নির্ধারিত হয় ১৯৬৭ সালে এবং ১৯৮৩ সালে আলোর গতিবেগের নির্দিষ্ট মান আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। অথচ প্রাচীন মিশরীয়রা দৈর্ঘ্য মাপতে রয়্যাল কিউবিট একক ব্যবহার করতেন। তাঁদের সময়ে আধুনিক ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক ব্যবস্থাও ছিল না।

 

এ ছাড়া, পিরামিডের মধ্য দিয়ে অনেক অক্ষাংশরেখা যেতে পারে। ফলে নির্দিষ্ট একটি সংখ্যার সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া নিছক কাকতালীয় ঘটনা হতে পারে।

 

সুতরাং, এই সংখ্যাগত মিল কৌতূহলোদ্দীপক হলেও কোনও বৈজ্ঞানিক সম্পর্ক প্রমাণ করে না। প্রাচীন মিশরীয়দের প্রকৃত কৃতিত্ব তাঁদের অসাধারণ স্থাপত্য, জ্যামিতিক জ্ঞান এবং নির্মাণদক্ষতার মধ্যেই নিহিত। সেই অর্জনের গুরুত্ব বোঝাতে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সঙ্গে অপ্রমাণিত কোনও যোগসূত্র খুঁজে বার করার প্রয়োজন নেই।

 

 

সূত্র:astrophilesezh

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

16 − one =