চাঁদের চারপাশে ঐতিহাসিক যাত্রা শেষ করে নতুন দায়িত্বে ফিরছেন নাসার দুই মহাকাশচারী ভিক্টর গ্লোভার ও রিড ওয়াইজম্যান। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে তাঁরা নাসার জনসন স্পেস সেন্টারে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ভূমিকায় কাজ করবেন। পূর্ণকালীন দায়িত্ব থেকে সরে গেলেও তাঁরা স্বেচ্ছায় বর্তমান কর্মীদের প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও নিজেদের দীর্ঘ মহাকাশযাত্রার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেবেন।
গ্লোভার ও ওয়াইজম্যান ছিলেন চার সদস্যের আর্টেমিস-২ অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন নাসার ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির জেরেমি হ্যানসেন। প্রায় ১০ দিনের এই অভিযানে মানুষ প্রথমবারের মতো ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর চাঁদের কক্ষপথে পৌঁছায়। অভিযানের সময় তাঁরা পৃথিবী থেকে আগের যেকোনও মানব অভিযানের তুলনায় আরও দূরে গিয়েছিলেন। ১০ এপ্রিল নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে আসে দলটি।
আর্টেমিস-২ ছিল নাসার গভীর মহাকাশ অভিযানের প্রথম মানববাহী পরীক্ষা, যেখানে ওরিয়ন মহাকাশযান, SLS রকেট এবং কেনেডি স্পেস সেন্টারের গ্রাউন্ড সিস্টেম একসঙ্গে পরীক্ষা করা হয়। মানুষের উপস্থিতিতে মহাকাশে ওরিয়নের বিভিন্ন ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, সেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও এই অভিযানে পাওয়া যায়।
এবার সেই অভিজ্ঞতাই কাজে লাগাবেন গ্লোভার ও ওয়াইজম্যান। গ্লোভার ওরিয়ন মহাকাশযান এবং তার বিভিন্ন সিস্টেম সম্পর্কে অর্জিত প্রযুক্তিগত জ্ঞান ভবিষ্যৎ অভিযানের সদস্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেবেন। অন্যদিকে ওয়াইজম্যানও তাঁর মহাকাশযাত্রা ও নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা দিয়ে নাসার পরবর্তী প্রজন্মের মহাকাশচারীদের প্রশিক্ষণে সাহায্য করবেন।
এই অভিজ্ঞতা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ আর্টেমিস-৩-এর প্রস্তুতিতে। নাসার পরিকল্পনা অনুযায়ী, আর্টেমিস-৩-এ পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে ওরিয়ন ও বাণিজ্যিক মানববাহী ল্যান্ডারের মধ্যে সংযোগ ও ডকিং প্রযুক্তি পরীক্ষা করা হবে। চাঁদের পৃষ্ঠে মানুষের প্রত্যাবর্তনের পরবর্তী ধাপগুলির জন্য এই পরীক্ষাগুলি গুরুত্বপূর্ণ।
নাসা জানিয়েছে, দুই মহাকাশচারীর এই নতুন দায়িত্ব মূলত তাঁদের অর্জিত জ্ঞান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে। ফলে চাঁদ থেকে ফিরে এলেও তাঁদের মহাকাশযাত্রা এখানেই শেষ নয়—এবার তাঁদের অভিজ্ঞতাই হয়ে উঠবে নাসার পরবর্তী চন্দ্র অভিযানের অন্যতম সম্পদ।
সূত্র:https://scitechdaily.com/they-flew-around-the-moon-now-nasa-has-a-new-mission-for-them/
