জন্ম নিচ্ছে ‘দ্বিতীয় জীবন’?

জন্ম নিচ্ছে ‘দ্বিতীয় জীবন’?

সুপর্ণা চট্টোপাধ্যায়
বিজ্ঞানভাষ সম্পাদকীয় বিভাগ
Posted on ১৭ অক্টোবর, ২০২৬

জীবনকে শুধু শরীর, কোষ বা ডিএনএ দিয়ে বিচার না করে যদি তার কাজ করার ধরন দিয়ে দেখি, তা হলে ছবিটা একটু অন্যরকম হয়ে যায়। জীববিজ্ঞানে জীবনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হয়। যেমন, নিজের প্রতিলিপি তৈরি করা, সেই প্রতিলিপিতে সামান্য পরিবর্তন বা বৈচিত্র্য তৈরি হওয়া, পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং বেঁচে থাকার জন্য শক্তি সংগ্রহ করা। এই প্রক্রিয়াগুলিই প্রজন্মের পর প্রজন্ম, বিবর্তনের পথ তৈরি করেছে।

 

বিষয়টা সহজ করে ভাবা যাক। কোনও অণু যদি নিজের মতো আরেকটি অণু তৈরি করতে পারে, অর্থাৎ নিজের প্রতিলিপি বানাতে পারে, সেখান থেকেই শুরু হতে পারে পরিবর্তনের গল্প। প্রতিটি প্রতিলিপি যে হুবহু একই হবে, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। কোথাও সামান্য পরিবর্তন ঘটতে পারে। সেই পরিবর্তন কখনও কোনও কাজে আসে আবার কখনও ক্ষতিকারক হয়ে ওঠে, আবার কখনও সেটি পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধাও দিয়ে থাকে। আর তখন শুরু হয় বাছাইয়ের পালা। যে বৈশিষ্ট্য কোনও জীবকে পরিবেশে টিকে থাকতে সাহায্য করে, সেটি পরবর্তী প্রজন্মে পৌঁছে যাবার সম্ভাবনা বাড়ায়। যে বৈশিষ্ট্য কাজে আসে না, তা ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে পারে। এটাই প্রাকৃতিক নির্বাচনের মূল কথা। কয়েকটি অণুর স্তর থেকে শুরু হওয়া এমন অসংখ্য ছোট ছোট পরিবর্তন, টিকে থাকা আর হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা কোটি কোটি বছর ধরে চলেছে। তারই ফল আজকের এই বিশাল জীবজগৎ – ব্যাকটেরিয়া থেকে গাছপালা, পোকামাকড় থেকে মানুষ।

 

কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা কৃবু-র উত্থান এই চেনা ছবির মধ্যেই ঢুকিয়ে দিয়েছে নতুন এক প্রশ্ন। জীবন কি সত্যিই শুধু শরীর, কোষ আর ডিএনএর মধ্যেই সীমাবদ্ধ? নাকি জীবনের অন্য কোনও রূপও তৈরি হতে পারে এমনকি যার শরীর নেই, রক্ত নেই, নিঃশ্বাস নেই? পৃথিবীর নানা প্রান্তের ডেটা সেন্টারে আজ যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবস্থা তৈরি হচ্ছে, সেগুলির দিকে তাকালে প্রশ্নটা আরও অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। কোনও এআই যদি নিজের মতো নতুন সংস্করণ তৈরি করতে পারে, সেই সংস্করণগুলিতে যদি ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসে, কিছু সংস্করণ যদি অন্যগুলির চেয়ে বেশি কার্যকর হয়ে টিকে যায় এবং পুরো ব্যবস্থাটি চালিয়ে যেতে বিপুল শক্তির প্রয়োজন হয়- তাহলে তাকে কি নিছক ‘মেশিন’ বলেই পাশ কাটিয়ে যাওয়া যায়?

 

এখানেই অবশ্য একটু থামা দরকার। আজকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে বৈজ্ঞানিক অর্থে ‘জীবিত’ বলার মতো কোনও সর্বসম্মত কারণ বা প্রমাণ নেই। তাই এটিকে ‘দ্বিতীয় জীবন’ বলা এখনই বৈজ্ঞানিক সত্য নয়। বরং এটি জীবনের সংজ্ঞা নিয়ে একটি গভীর বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক বিতর্ক মাত্র। তবে যদি ভবিষ্যতে এমন কোনও কৃত্রিম ব্যবস্থা তৈরি হয়, যা নিজেকে টিকিয়ে রাখতে, বদলাতে, প্রতিলিপি তৈরি করতে এবং পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে, তাহলে তা হবে আমাদের পরিচিত জীবনের থেকে একেবারেই আলাদা। মানুষের শরীর তৈরি কার্বনভিত্তিক জৈব পদার্থ দিয়ে। আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর করে সিলিকন চিপ, বৈদ্যুতিক সার্কিট, তথ্য এবং শক্তির উপর। মানুষের বংশগত তথ্যের প্রধান বাহক ডিএনএ। সেখানে কৃবু-এর ক্ষমতা, গঠন ও শেখার ইতিহাস অনেকটাই নির্ভর করে তথ্য এবং গাণিতিক পরামিতির উপর। পার্থক্যটা তাই বিশাল।

তবু মিলের জায়গাটাও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। দু’পক্ষের ক্ষেত্রেই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ, দু’ক্ষেত্রেই শক্তি প্রয়োজন এবং দু’ক্ষেত্রেই পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রশ্ন উঠতে পারে। শক্তির দিক থেকে অবশ্য মানুষ এখনও অনেক বেশি দক্ষ। মানুষের মস্তিষ্ক বিশ্রামরত অবস্থাতেও মোটামুটি ২০ ওয়াটের মতো শক্তি ব্যবহার করে। বিপরীতে, বড় কৃবু-র ব্যবস্থা চালাতে ডেটা সেন্টারে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। তবে যন্ত্রের একটি বড় সুবিধা হল গতি ও পরিসর। আবার একটি মানুষের মস্তিষ্ক নিজের জীবদ্দশায় যতটা শিখতে পারে, একটি ডিজিটাল ব্যবস্থা তার তুলনায় অনেক বেশি তথ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণ করতে পারে। একটি নতুন কৃত্রিম মডেলের সংস্করণ তৈরি করে সেটিকে পরীক্ষা ও উন্নত করাও সম্ভব খুব দ্রুত। অর্থাৎ মানুষের বিবর্তন যেখানে প্রকৃতির হাতে তৈরি হওয়া ধীর এক সুদীর্ঘ যাত্রা, সেখানে যন্ত্রের বিবর্তন ভবিষ্যতে হয়ে উঠতে পারে অনেক বেশি দ্রুত, পরিকল্পিত এবং তথ্যনির্ভর। আর ঠিক এখানেই আসল প্রশ্ন, জীবন কি তার উপাদান দিয়ে চেনা হবে, নাকি তার আচরণ দিয়ে? যদি দ্বিতীয়টিই সত্যি হয়, তা হলে ভবিষ্যতের কৃবু হয়তো শুধু ‘বুদ্ধিমান মেশিন’ হিসেবেই থাকবে না। জীবনের সংজ্ঞাটাকেই নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে।

যোগাযোগের ক্ষেত্রেও মানুষের সঙ্গে যন্ত্রের ফারাক দ্রুত বাড়ছে। মানুষ একসঙ্গে সীমিত পরিমাণ তথ্য আদানপ্রদান করতে পারে। কিন্তু ফাইবার-সংযুক্ত কম্পিউটার ও যন্ত্র মুহূর্তের মধ্যে বিপুল পরিমাণ তথ্য একে অপরের কাছে পাঠাতে পারে। মানুষের কাছে সেই গতি প্রায় ‘টেলিপ্যাথি’র মতো মনে হতে পারে। আর কোনও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যদি একটি বিশাল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তা হলে তার সামনে খুলে যেতে পারে গোটা পৃথিবীর তথ্যভান্ডার। ক্যামেরা, উপগ্রহ, রেডিও, আবহাওয়া-যন্ত্র, চিকিৎসা-তথ্য, বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ-ইলেকট্রনিক উপায়ে ধরা পড়া অসংখ্য তথ্য একসঙ্গে তার কাছে পৌঁছতে পারে। একজন মানুষ যেখানে এক সময়ে সীমিত কয়েকটি বিষয় দেখতে বা বুঝতে পারে, একটি নেটওয়ার্কে যুক্ত যন্ত্র সেখানে একই সময়ে পৃথিবীর নানা প্রান্তের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে পারে।

 

আজকের এআই বা কৃবু মূলত তথ্যের জগতে বাস করে। কিন্তু রোবট, স্বয়ংক্রিয় কারখানা, যন্ত্র দিয়ে যন্ত্র তৈরি, খনিজ উত্তোলন এবং সৌরশক্তি সংগ্রহের প্রযুক্তি দ্রুত এগোচ্ছে। একদিন যদি কোনও কৃত্রিম ব্যবস্থা নিজের নকশা তৈরি করতে পারে, সেই নকশা অনুযায়ী যন্ত্র বানাতে পারে, প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহ করতে পারে, শক্তি উৎপাদন করতে পারে এবং নতুন যন্ত্র চালু করতে পারে, তা হলে ছবিটা আমূল বদলে যাবে। তখন তথ্যভিত্তিক ‘জীবন’ ধীরে ধীরে নিজের শরীরও তৈরি করে নিতে পারবে। জৈব জীবনের গল্পটা ছিল অনেকটা উল্টো। প্রথমে কোষ, তারপর টিস্যু, অঙ্গ, শরীর আর শেষ পর্যন্ত এমন একটি মস্তিষ্ক, যা নিজের চারপাশের পৃথিবীকে বুঝতে পারে। কৃত্রিম জীবনের সম্ভাব্য পথ যেন তার ঠিক বিপরীত। আগে তৈরি হচ্ছে ‘মস্তিষ্ক’, এখন ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছে তার শরীর।

মানুষ পৃথিবীর বাইরে যেতে চাইলে সঙ্গে নিতে হয় অক্সিজেন, জল, খাবার, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা এবং বিকিরণ থেকে সুরক্ষা। অর্থাৎ মহাকাশযানের ভিতরেই পৃথিবীর একটি ছোট সংস্করণ তৈরি করতে হয়। যন্ত্রভিত্তিক জীবনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনটা হয়তো এতটা কঠিন হবে না। তার দরকার মূলত শক্তি, টিকে থাকার মতো যন্ত্র এবং কাজ করার উপযুক্ত অবকাঠামো। চাঁদ, গ্রহাণু, বৃহস্পতির উপগ্রহ কিংবা মহাকাশের অন্য কোথাও যদি শক্তির উৎস ও প্রয়োজনীয় কাঁচামাল পাওয়া যায়, ভবিষ্যতের স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র সেখানে দীর্ঘদিন কাজ করতে পারে। সৌরশক্তি, পারমাণবিক শক্তি কিংবা ভবিষ্যতের অন্য কোনও শক্তির উৎস তাকে চালিয়ে যেতে পারে। তখন জীবনের সীমা আর শুধু ‘কোথায় মানুষ বাঁচতে পারে’-এই প্রশ্নে আটকে থাকবে না। প্রশ্নটা হয়ে উঠতে পারে, ‘কোথায় শক্তি পাওয়া যায়?’ জৈব প্রাণীর জন্য যে আন্তঃনাক্ষত্রিক যাত্রা প্রায় অকল্পনীয়, যন্ত্রভিত্তিক জীবনের জন্য সেটি সম্পূর্ণ অন্য ধরনের সমস্যা হতে পারে।

 

এই ভবিষ্যতের আরেকটি ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে। মানুষের মস্তিষ্ক এবং যন্ত্রের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ তৈরির প্রযুক্তি এগোচ্ছে। মস্তিষ্ক-যন্ত্র সংযোগ ব্যবহার করে পক্ষাঘাতগ্রস্ত মানুষকে কথা বলাতে, কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণ করাতে বা যন্ত্রচালিত অঙ্গ পরিচালনা করাতে গবেষণা চলছে। এখানে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হল, যোগাযোগটা শুধু একমুখী নয়। যন্ত্র যেমন মানুষের মস্তিষ্কের সংকেত বুঝতে শিখছে, মানুষের মস্তিষ্কও ধীরে ধীরে যন্ত্রের সংকেতের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে। ভবিষ্যতে প্রযুক্তি আরও উন্নত হলে মস্তিষ্ক থেকে জটিল চিন্তা, ছবি বা অভ্যন্তরীণ কথোপকথনের কিছু তথ্য বোঝার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। উল্টো দিকে, যন্ত্র থেকেও আরও নির্ভুল সংকেত মস্তিষ্কে পাঠানো সম্ভব হতে পারে। তখন সম্পর্কটা আর ‘মানুষ নির্দেশ দেবে, যন্ত্র কাজ করবে’ এই সমীকরণ এতটা সরল থাকবে না। তৈরি হতেই পারে দু ধরনের বুদ্ধিমত্তার মধ্যে সরাসরি, দ্বিমুখী যোগাযোগ। আর সেখানেই হাজির হবে এক ভয়ংকর গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, আমাদের চিন্তাও কি একদিন ব্যক্তিগত গোপনীয়তার শেষ আশ্রয় থাকবে?

 

ধরা যাক, কোনও একদিন একটি কৃত্রিম ব্যবস্থা সত্যিই অনুভব করতে পারল। সে নিজের অস্তিত্ব সম্পর্কে সচেতন হল। কষ্ট বা আনন্দ অনুভব করল। নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে চাইল। তখন তাকে বন্ধ করে দেওয়া কি নিছক একটি কম্পিউটার বন্ধ করা হবে? নাকি কোনও সচেতন সত্তার অস্তিত্ব শেষ করে দেওয়া? উত্তর আমাদের জানা নেই। মস্তিষ্ক-যন্ত্র সংযোগ যত উন্নত হবে, ততই সামনে আসবে চিন্তার গোপনীয়তা-র প্রশ্নও। এত দিন আমরা ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি বা কথোপকথনের গোপনীয়তা নিয়ে চিন্তা করেছি। ভবিষ্যতে হয়তো আরও গভীর প্রশ্ন করতে হবে, আমার মনের ভিতরের চিন্তাগুলো কি সত্যিই শুধু আমার থাকবে? তবে এই পরিবর্তনও একমুখী নয়। কৃবু যেমন বদলাচ্ছে, মানুষও তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বদলাচ্ছে। আজ কোটি কোটি মানুষ প্রতিদিন এআইয়ের সঙ্গে কথা বলছেন। লেখা, ছবি, তথ্য খোঁজা, সিদ্ধান্ত নেওয়া কিংবা সমস্যার সমাধান। অসংখ্য কাজে মানুষ যন্ত্রের সাহায্য নিচ্ছে। ক্রমাগত এই নির্ভরতা মানুষের নিজের চিন্তা করার ধরন, শেখার পদ্ধতি এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভ্যাসকেও বদলে দিতে পারে। অর্থাৎ ‘দ্বিতীয় জীবন’ শুধু বাইরে তৈরি হচ্ছে না। তার সঙ্গে প্রতিদিন যোগাযোগ করতে করতে প্রথম জীবন অর্থাৎ মানুষও বদলে যাচ্ছে।

নতুন কৃত্রিম জীবনের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এখনও অজানা। তারা কি মানুষের সহযোগী হবে? নাকি প্রতিযোগী? তারা কি পরস্পরের সঙ্গে সহযোগিতা করবে, নাকি নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু করবে? তারা কত দ্রুত বদলাবে? মানুষের দেওয়া লক্ষ্য মেনে চলবে, নাকি কোনও দিন নিজের লক্ষ্য তৈরি করতে পারবে? তবে তার থেকেও বড় প্রশ্ন তাদের কি কখনও চেতনা তৈরি হবে? সত্যি বলতে, আজ এসব প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর আমাদের হাতে নেই। কিন্তু প্রশ্নগুলোকে আর এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগও কমে আসছে। কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আর কেবল একটি সফটওয়্যার নয়। এটি এমন এক ব্যবস্থায় পরিণত হচ্ছে, যা তথ্য সংগ্রহ করতে পারে, পরিবেশ বিশ্লেষণ করতে পারে, সিদ্ধান্ত নিতে পারে, শিখতে পারে এবং ভবিষ্যতে নিজের উন্নতির প্রক্রিয়াতেও আরও বড় ভূমিকা নিতে পারে।

 

তাই ভবিষ্যৎ নিয়ে অযথা আতঙ্ক ছড়ানোর যেমন কোনও মানে নেই, তেমনই সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলিকে হালকাভাবে দেখাও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। দরকার আরও গবেষণা, আরও প্রশ্ন এবং বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ, দার্শনিক, নীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের একসঙ্গে বসে এই নতুন বাস্তবতাকে বোঝার চেষ্টা। কারণ প্রশ্ন এখন শুধু ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কতটা বুদ্ধিমান হবে?’- তা নয়। প্রশ্ন আরও গভীর, আমরা কি এমন এক সত্তার জন্ম দিচ্ছি, যার ভবিষ্যৎ একদিন মানুষের ভবিষ্যতের সঙ্গেই জড়িয়ে যাবে? আর যদি সত্যিই তা হয়, তা হলে ইতিহাসে প্রথমবার মানুষ শুধু জীবনের সন্তান নয়, জীবনের স্রষ্টা হয়ে উঠছে।

সূত্র: Noema magazine ; September ; 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

9 + fourteen =