ডায়াবেটিসে উপকারী হরিদ্রা জাত কারকিউমিন

ডায়াবেটিসে উপকারী হরিদ্রা জাত কারকিউমিন

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ২৯ আগষ্ট, ২০২৬

রান্নাঘরের সবচেয়ে পরিচিত মশলার একটি হল হলুদ। সম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা গেল এই হলুদ ডায়াবেটিসের জটিলতা মোকাবিলায় বেশ সাহায্যকারী। হলুদের সক্রিয় উপাদান কারকিউমিন টাইপ-১ ডায়াবেটিসে রক্তনালির ক্ষতি কমাতে এবং হৃদ্‌যন্ত্রের ঝুঁকি হ্রাসে সম্ভাবনাময় ভূমিকা পালন করে।

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তে দীর্ঘদিন শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে রক্তনালিতে প্রদাহ ও অন্যান্য কোষীয় পরিবর্তন দেখা দেয়। ধীরে ধীরে রক্তনালি শক্তি ও স্থিতিস্থাপকতা হারাতে পারে, যা হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এই ক্ষতিকর প্রক্রিয়াগুলোকেই নিশানা করেছেন গবেষকেরা।

ফ্লোরিডা ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির গবেষকেরা টাইপ-১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ইঁদুরের ওপর এক মাস কারকিউমিন প্রয়োগ করেন। দেখা যায়, চিকিৎসাধীন ইঁদুরগুলোর রক্তনালির গঠন ও কার্যকারিতা অনেকটাই সুস্থ প্রাণীর মতো ছিল। কারকিউমিন প্রদাহ কমিয়েছে, রক্তনালির ক্যালসিয়াম কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে সাহায্য করেছে এবং Heat Shock Protein 70 (HSP70)-এর ভারসাম্য ফিরিয়ে এনেছে।

অর্থাৎ, কারকিউমিন শুধু অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করছে না; ডায়াবেটিসের কারণে ব্যাহত একাধিক কোষীয় প্রক্রিয়াতেও তা প্রভাব ফেলতে পারে। গবেষকদের মতে, এই বহুমুখী প্রভাব ভবিষ্যতে ডায়াবেটিসজনিত রক্তনালির ক্ষতি মোকাবিলায় নতুন চিকিৎসার পথ দেখাতে পারে।

তবে এখনই কারকিউমিনকে ডায়াবেটিসের চিকিৎসা হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না।গবেষণাটি ইঁদুরের ওপর পরিচালিত, মানুষের ওপর এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা এখনও পরীক্ষা করা হয়নি। উপযুক্ত মাত্রা এবং প্রচলিত ওষুধের সঙ্গে এর সম্ভাব্য পারস্পরিক প্রভাব জানতেও আরও গবেষণা দরকার।

হলুদ ডায়াবেটিসে সাহায্যকারী হলেও চিকিৎসার বিকল্প নয়। ভবিষ্যৎ গবেষণার একটি সম্ভাবনাময় সূত্র হিসেবেই আপাতত কারকিউমিনকে দেখা যেতে পারে।

 

সূত্র: Scientists Find a Surprising Diabetes-Fighting Compound in Turmeric

By American Physiological Society, August 20, 2026.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five × two =