ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতে যাপনের পরিবর্তন

ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতে যাপনের পরিবর্তন

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিশ্বজুড়ে বর্তমানে ৫ কোটি ৭০ লক্ষেরও বেশি মানুষ ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত। প্রতি বছর নতুন করে প্রায় ১ কোটি মানুষের এই রোগ ধরা পড়ে। এখনও এর বহুল ব্যবহৃত কোনও নিরাময় নেই। তাই ঝুঁকি কমানোর দিকেই গুরুত্ব দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন করে এর ঝুঁকি ৪৫% পর্যন্ত কমানো বা রোগটির সূত্রপাত পিছিয়ে দেওয়া সম্ভব। জুলাই ২০২৬-এ প্রকাশিত নতুন নির্দেশিকায় এমনটাই জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তাদের মতে, ডিমেনশিয়ার ঝুঁকির একটি বড় অংশ এমন কিছু কারণের সাথে সংযুক্ত যেগুলি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। যেমন ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান, শরীরচর্চার অভাব, সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকা, বায়ুদূষণ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং বেশি কোলেস্টেরল। ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাবার, ধূমপান বন্ধ করা, মদ্যপান কমানো এবং রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। পাশাপাশি বায়ুদূষণ থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকা, মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখতে পড়াশোনা বা চিন্তাশীল কাজে যুক্ত থাকা এবং সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে শ্রবণযন্ত্র ব্যবহারের কথাও বলা হয়েছে। যাদের স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাভাবনার ক্ষমতা এখনও স্বাভাবিক, কিংবা যাদের মৃদু স্মৃতিভ্রংশ রয়েছে, তাদের জন্য মানসিক অনুশীলন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডও উপকারী হতে পারে। তবে ডিমেনশিয়া ঠেকাতে নিজের ইচ্ছেমতো ভিটামিন B বা E, ওমেগা-৩, মাল্টিভিটামিন বা মিনারেল সাপ্লিমেন্ট না খাওয়াই ভালো। শরীরে নির্দিষ্ট কোনও ঘাটতি ধরা না পড়লে এগুলির উপকারের যথেষ্ট প্রমাণ নেই। অর্থাৎ, ডিমেনশিয়া প্রতিরোধের কোনও একক উপায় নেই। বরং যত তাড়াতাড়ি স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা শুরু করা যায়, ততই ভবিষ্যতে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখার সুযোগ বাড়ে।

 

সূত্র: Science Acumen; September, 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 × five =