তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস আগেই ফলে গেল  

তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস আগেই ফলে গেল  

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ৬ জুলাই, ২০২৬

বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের গতি যে বিজ্ঞানীদের আগের আশঙ্কাকেও ছাপিয়ে যাচ্ছে, এবার তারই এক স্পষ্ট উদাহরণ দেখা গেল ফ্রান্সে। ২০১৪ সালে যে তাপপ্রবাহের চিত্র ২০৫০ সালের সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ হিসেবে কল্পনা করা হয়েছিল, বাস্তবে তা ঘটেছে নির্ধারিত সময়ের দুই দশকেরও বেশি আগে। এই ঘটনা জলবায়ু সংকটের তীব্রতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

২০১৪ সালে ফরাসি আবহাওয়াবিদ এভলিন ধেলিয়া একটি বিশেষ টেলিভিশন সম্প্রচারে ২০৫০ সালের আগস্ট মাসের একটি কল্পিত আবহাওয়ার পূর্বাভাস উপস্থাপন করেছিলেন। এটি প্রকৃত আবহাওয়ার পূর্বাভাস ছিল না; ছিল জলবায়ু পরিবর্তনের সম্ভাব্য প্রভাব সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরার জন্য একটি চিত্রায়ন। সেই মানচিত্রে ফ্রান্সের ৩৪টি শহরের জন্য সম্ভাব্য সর্বোচ্চ তাপমাত্রা দেখানো হয়েছিল, যেখানে তাপমাত্রা প্রায় ২৬ থেকে ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৭৯°F–১০৯°F) পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে ধরা হয়েছিল।

কিন্তু ২০২৬ সালের চলমান তাপপ্রবাহ সেই কল্পিত ভবিষ্যৎকেও ছাড়িয়ে গেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ওই মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত ৩৪টি শহরের মধ্যে অন্তত ১৯টিতে তাপমাত্রা ২০১৪ সালের ২০৫০-সালের কল্পিত পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। কোথাও কোথাও পারদ ৪৪.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১১২.৩°F) পর্যন্ত উঠেছে। কিছু শহরে বাস্তব তাপমাত্রা সেই সময়ের কল্পিত মানকে ২০ ডিগ্রি ফারেনহাইটেরও বেশি অতিক্রম করেছে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা জোর দিয়ে জানিয়েছে, ২০১৪ সালের সেই মানচিত্রে কোনো নির্দিষ্ট বছরের আবহাওয়ার পূর্বাভাস ছিল না। এর উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে বোঝানো যে, গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে উষ্ণ পৃথিবীতে জীবন কতটা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু আজকের বাস্তবতা দেখাচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিজ্ঞানীদের অনেক আগের ধারণার তুলনায় আরও দ্রুত এবং আরও তীব্রভাবে সামনে আসছে।

বর্তমানে ফ্রান্সসহ পশ্চিম ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ভয়াবহ তাপপ্রবাহের কবলে রয়েছে। অতিরিক্ত গরমের কারণে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় বিভিন্ন জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান ল্যুভর জাদুঘর এবং আইফেল টাওয়ার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। হাসপাতালগুলোকে সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে এবং প্রবীণ, শিশু ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসতর্কতা জারি করা হয়েছে।

এই কারণেই বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন, কার্বন নিঃসরণ দ্রুত কমানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলা প্রভৃতি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আর বিলম্ব করার সুযোগ নেই। নইলে আজ যে তাপপ্রবাহ ফ্রান্সে দেখা যাচ্ছে, আগামী দিনে এই পরিস্থিতি বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের জন্য কঠোর বাস্তবতায় পরিণত হতে পারে।

 

সূত্র: The Washington Post; Futurism; World Meteorological Organization (WMO).

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two + nineteen =