দৃষ্টিহীনতায় মাইটোকন্ড্রিয়া প্রতিস্থাপন

দৃষ্টিহীনতায় মাইটোকন্ড্রিয়া প্রতিস্থাপন

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিশ্বে এই প্রথমবার একজন মানুষের চোখে তাঁর নিজের পেশি থেকে সংগৃহীত মাইটোকন্ড্রিয়া প্রতিস্থাপন করা হল। গুরুতর দৃষ্টিশক্তি হীন ২৬ বছর বয়সি এক নারীর উরুর পেশি থেকে মাইটোকন্ড্রিয়া সংগ্রহ করে দুই চোখের ভিট্রিয়াস ফ্লুইডে ইনজেকশন দেওয়া হয়। আইকান স্কুল অব মেডিসিন, মাউন্ট সিনাই-এর গবেষকরা জরুরি ভিত্তিতে এই অটোলোগাস-এর চিকিৎসা করেন। অর্থাৎ, রোগীর নিজের শরীর থেকেই মাইটোকন্ড্রিয়া সংগ্রহ করে তাঁরই চোখে ব্যবহার করা হয়। ঐ নারীর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের দরুন দীর্ঘ সময় অক্সিজেনের অভাবে অপটিক নার্ভ ও রেটিনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তিনি প্রায় সম্পূর্ণ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন। এমনকি কয়েক সপ্তাহ ধরে চোখে আলো ফেললেও তাঁর চোখের মণিতে কোনও প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছিল না। চিকিৎসার আগে তাঁর উরুর পেশির একটি ছোট বায়োপসি নেওয়া হয়। সেখান থেকে কয়েক কোটি সুস্থ মাইটোকন্ড্রিয়া আলাদা করে পরপর দুই দিনে দুই চোখে ইনজেকশন দেওয়া হয়। মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের ‘শক্তিঘর’ বলা হয়, কারণ এগুলি কোষের কাজ চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি তৈরি করে। গবেষকদের ধারণা ছিল, ক্ষতিগ্রস্ত রেটিনা ও অপটিক নার্ভের কোষ নতুন মাইটোকন্ড্রিয়া গ্রহণ করলে তাদের শক্তি উৎপাদন এবং কিছুটা কার্যক্ষমতা ফিরতে পারে। প্রাথমিক ফলাফলে আশার কিছু ইঙ্গিত মিলেছে। চিকিৎসার কয়েক দিনের মধ্যেই দুই চোখে আলো ফেললে চোখের মণির প্রতিক্রিয়া ফিরে আসে। মস্তিষ্কের দৃষ্টিসংক্রান্ত অংশ, অর্থাৎ ভিজ্যুয়াল কর্টেক্সেও সংগঠিত কার্যকলাপের প্রমাণ পাওয়া যায়। এক চোখে ওই নারী অল্প সময়ের জন্য আকার ও ছায়া দেখতে পেরেছিলেন। তবে এই উন্নতি স্থায়ী হয়নি। কয়েক সপ্তাহ পর আলোর প্রতি চোখের প্রতিক্রিয়া এবং দৃষ্টির পরিবর্তন ধীরে ধীরে কমে যায়। স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তিও ফিরে আসেনি। অবশ্য চিকিৎসার পর উল্লেখযোগ্য প্রদাহ বা গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা যায়নি। এর আগে প্রাণীর ওপর এবং মানুষের শরীরের অন্যান্য অঙ্গে সীমিত গবেষণায় মাইটোকন্ড্রিয়া প্রতিস্থাপনের কিছু সম্ভাবনা দেখা গিয়েছিল। তবে মানুষের চোখে এই পদ্ধতির প্রয়োগ এই প্রথম। গবেষকদের মতে, একটি মাত্র পরীক্ষার ফল দিয়ে এই চিকিৎসাকে সফল বলা যাবে না। তবে পদ্ধতিটি প্রাথমিকভাবে নিরাপদ বলে মনে হওয়ায় ভবিষ্যতে আরও গবেষণার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে অপটিক নার্ভের আঘাত এবং কয়েক ধরনের দৃষ্টিহীনতার চিকিৎসায় মাইটোকন্ড্রিয়া প্রতিস্থাপন কতটা কার্যকর হতে পারে, তা এবার বড় পরিসরে পরীক্ষা করে দেখতে চান বিজ্ঞানীরা।

 

সূত্র: Nature

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five + 14 =