শৈশবে অতিরিক্ত নরকে যাওয়ার ভয় দেখালে অনেকের নরকাতঙ্ক নামে একরকম মানসিক রোগ হয়, তার নাম স্টিগিলোফোবিয়া (Stygilophobia). শিশুকাল থেকে পাপ আর নরকের ভয় এই রোগের কারণ ।
জাপানে ধর্মীয় বিশ্বাসের আড়ালে শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে এবার আইন চালু হচ্ছে। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে সেখানকার স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রক শিশু কল্যাণকেন্দ্রগুলির জন্য নতুন নির্দেশিকা তৈরি করেছে। বছরের শেষেই দেশজুড়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে তা জানানো হবে। খসড়ায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, অভিভাবক বা শিশুর ধর্মীয় বিশ্বাস যাই হোক, নির্যাতনের ঘটনা অন্য সব শিশুনির্যাতনের মতোই বিবেচিত হবে। এই ধরনের নির্যাতনের কিছু উদাহরণ – ধর্মীয় আচারে বা কাজে বাধ্য করতে শিশুকে চড় মারা, মারধর বা বেত্রাঘাত করা; ‘‘নরকে যেতে হবে’’ বলে ভয় দেখিয়ে নিজের পছন্দমতো পড়াশোনা, চাকরি, সম্পর্ক বা বিয়ে করতে না দেওয়া; বন্ধু বা শিক্ষকদের ‘শত্রু’ বলে শিশুর মনে ভয় ও বিচ্ছিন্নতা তৈরি করা; প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, এমনকি রক্ত সঞ্চালনেও ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে বাধা দেওয়া। এগুলো এখন আইনবিরুদ্ধ। জাপানের আইন অনুযায়ী, শারীরিক আঘাতের পাশাপাশি অবহেলা এবং অপমান, ভয় দেখানো বা প্রত্যাখ্যানের মতো মানসিক আঘাতও শিশুনির্যাতনের আওতায় পড়ে। কিন্তু ধর্মীয় স্বাধীনতার কথা ভেবে কিছু ক্ষেত্রে শিশু কল্যাণকেন্দ্রগুলি এসব ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নেবে, তা নিয়ে দ্বিধায় ছিল। নতুন নির্দেশিকায় সেই ধোঁয়াশা কাটানোর চেষ্টা হয়েছে। কারণ, অভিভাবকের প্রবল ধর্মীয় প্রভাবের আওতায় থাকা শিশু অনেক সময় নিজেকে নির্যাতনের শিকার বলে বুঝতে পারে না। আবার সাহায্য করতে গিয়ে এমন কোনও পদক্ষেপও করা উচিত নয়, যাতে বাবা-মা কিংবা ধর্মীয় সংগঠনের প্রভাব আরও বেড়ে যায়। তাই পরিস্থিতি গুরুতর হলে শিশুকে সাময়িকভাবে বিনা দ্বিধায় অভিভাবকের কাছ থেকে সরিয়ে নিরাপদ হেফাজতে নিতে বলা হয়েছে। ধর্মীয় নির্যাতনের পাশাপাশি ‘আধ্যাত্মিক বিক্রি পাটা’ বা ধর্মীয় বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে অর্থ আদায় এবং আর্থিক সমস্যায় পড়া ভুক্তভোগীদের জন্য পরামর্শকেন্দ্রে যোগাযোগের তথ্যও যুক্ত করার কথা ভাবছে মন্ত্রক। অর্থাৎ বার্তা একটাই – বিশ্বাস ব্যক্তিগত হতে পারে, কিন্তু সেই বিশ্বাসের নামে শিশুর অধিকার, নিরাপত্তা বা স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া যায় না।
সূত্র: October, 2026; The Mainichi, Japan’s National Daily
