শতাব্দী পেরিয়ে, এবার বিজ্ঞানীরা আনুষ্ঠানিকভাবে এক নতুন জীবিত বন্য বিড়াল প্রজাতির সন্ধান পেলেন। বলিভিয়ার মেঘে ঢাকা পাহাড়ি জঙ্গলে পাওয়া এই ছোট্ট বিড়ালটিকে দেখতে অনেকটা ক্ষুদে বাঘের মতো। প্রজাতিটির নাম দেওয়া হয়েছে লেপার্ডাস টিলকায়ো। স্থানীয় মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই বিড়ালকে ‘টিলকায়ো’ নামে চিনতেন। বলিভিয়ার ইউঙ্গাস অঞ্চলের বাসিন্দাদের ব্যবহৃত সেই নাম থেকেই নতুন প্রজাতিটির নামকরণ। আকারে এটি সাধারণ পোষা বিড়ালের থেকেও ছোট। এই প্রজাতির একটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ বিড়ালের মাথা থেকে লেজের গোড়া পর্যন্ত দৈর্ঘ্য প্রায় ১৮ ইঞ্চি, ওজন মাত্র প্রায় দেড় কেজি। হালকা বাদামি গায়ে ছড়িয়ে থাকা কালচে গোলাকার ছোপ থাকায় তাকে ছোটখাটো চিতাবাঘের মতো দেখায়। তাই একসময় অনেকেই তাকে সাধারণ বিড়ালের বাচ্চা ভেবেছিলেন। এই প্রাণীটির খোঁজ পাওয়া গেছে ‘টিগ্রিনো’ নামে পরিচিত একটি বিড়ালের মাধ্যমে। প্রায় ২০১৭ সাল থেকে সে বলিভিয়ার সেন্ডা ভার্দে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রে রয়েছে। স্থানীয় একটি পরিবার কিছুদিন তাকে পোষা প্রাণী হিসেবে রাখার পর সেটি ওই কেন্দ্রে আসে। পরে বিজ্ঞানীরা টিগ্রিনোর জিন তথ্য-এর সঙ্গে জাদুঘরে সংরক্ষিত নমুনা এবং দক্ষিণ আমেরিকার অন্যান্য ‘টাইগার ক্যাট’-এর জিনগত তথ্য মিলিয়ে দেখেন। তাতেই চমকপ্রদ তথ্য সামনে আসে। এতদিন যেসব প্রাণীকে একই বা কয়েকটি প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত মনে করা হতো, আসলে তারা পাঁচটি আলাদা প্রজাতি গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে টিলকায়ো প্রায় ১৪ লক্ষ বছর আগে অন্যদের থেকে আলাদা হয়ে যায়। পূর্ণাঙ্গ জিন বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই নতুন প্রজাতির পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। ১৯২৩ সালে প্যাম্পাস ক্যাট শনাক্ত হওয়ার পর এটিই প্রথম নতুন জীবিত বন্য বিড়াল প্রজাতি যা আনুষ্ঠানিকভাবে বিজ্ঞানীদের স্বীকৃতি পেল। তবে টিলকায়ো সম্পর্কে এখনও অনেক কিছুই অজানা। তারা কী খায়, কীভাবে জীবনযাপন করে এবং জঙ্গলে তাদের সংখ্যা কত—এসবের স্পষ্ট তথ্য এখনও নেই। তাই ইউঙ্গাসের জঙ্গল ও এই বিরল বিড়ালের আবাসস্থল রক্ষা করতে আরও গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধান জরুরি।
সূত্র: Science Acumen; September, 2026
