নাগাল্যান্ডে ফিরছে বাজরা চাষ 

নাগাল্যান্ডে ফিরছে বাজরা চাষ 

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নাগাল্যান্ডের রাজধানী কোহিমা থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে কেজোমা গ্রামে ফের জনপ্রিয় হচ্ছে বাজরা চাষ। চলতি মাসে, গ্রাম পরিষদ ও রাজ্যের কৃষি দফতরের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে দ্বিতীয় কেজোমা বাজরা ফেস্টিভ্যাল। উৎসবে কৃষকেরা ২,০০০ কেজিরও বেশি বাজরা বিক্রি করেন। বর্তমানে ঐ গ্রামে প্রায় ৩৬টি দল বাজরা চাষ করছে। বৈজ্ঞানিক দিক থেকে কেজোমার এই পরিবর্তন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাজরা তো শুধু খাদ্যশস্য নয়, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে বেশ সক্ষম একটি সহনশীল ফসল। নাগাল্যান্ডের পাহাড়ি অঞ্চলে জমির ঢাল, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং মাটির কম উর্বরতা কৃষির বড় বিপত্তি। অথচ সেখানে বাজরা ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে। বাজরার অন্যতম সুবিধা হল, কম জল ও কিছুটা কম কৃষি-উপকরণেই এটি চাষ করা যায়। খরা বা বৃষ্টির অনিয়ম, বেশি তাপমাত্রা এবং প্রতিকূল মাটির পরিস্থিতিতেও অনেক বাজরা প্রজাতি টিকে থাকতে পারে। উপরন্তু, ফসলের বৃদ্ধির সময়কাল তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় একই জমিতে একাধিকবার চাষের সুযোগ তৈরি হয়। কেজোমায় মূলত হলুদ ফক্সটেল বাজরা চাষ করা হয়। দ্রুত বেড়ে ওঠা এই শস্যের ফলনও ভালো। কৃষকদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, মাত্র প্রায় তিন মাসের মধ্যেই ফসল পাওয়া যায়। একই ‘ঝুম’ জমিতে বছরে দু’বার চাষ করা সম্ভব হওয়ায় জমির ব্যবহারও বাড়ানো যাচ্ছে। উত্তর-পূর্ব ভারতে প্রচলিত এই ‘ঝুম’ চাষপদ্ধতিতে পাহাড়ি জমির পরিবেশগত বৈশিষ্ট্য এবং মাটির অবস্থার সঙ্গে ফসল নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে মানানসই বাজরার মতো ফসল বেছে নেওয়া কৃষিকে আরও স্থিতিস্থাপক করে তুলতে পারে। বাজরা পুষ্টিগুণও এর জনপ্রিয়তা বাড়াচ্ছে। এতে বিভিন্ন ধরনের ফাইবার, খনিজ এবং জটিল কার্বোহাইড্রেট থাকে। কেজোমার কৃষি ব্যবস্থার আরও একটি বৈজ্ঞানিক দিক রয়েছে। গ্রামের প্রায় ৯৮% ধানজমিতে নিবিড় চাষ পদ্ধতি চালু হয়েছে। একই জমিতে একাধিক ফসল ফলানোর মাধ্যমে জমির উৎপাদনশীলতা এবং কৃষকের আয় বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। তবে বাজরা চাষের জন্যও প্রযুক্তির প্রয়োজন রয়েছে। ফসল কাটা, দানা আলাদা করা এবং পেষাই-এর কাজ শ্রমসাধ্য। তাই কৃষি দফতর কেজোমার কৃষকদের ঝাড়াই ও পেষাই মেশিন-সহ বিভিন্ন কৃষিযন্ত্র সরবরাহ করেছে। ফলে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকের শারীরিক শ্রমও কমানো সম্ভব। প্রচলিত কৃষিজ্ঞানকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করেই তৈরি হতে পারে আরও টেকসই কৃষিব্যবস্থা। কেজোমার অভিজ্ঞতা তাই শুধু একটি গ্রামের বাজরা চাষে ফিরে আসার গল্প নয়। এটি দেখায়, জলবায়ু পরিবর্তনের সময় কম জল, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং পাহাড়ি জমির মতো বিপত্তির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে এমন ফসলকে গুরুত্ব দেওয়া কৃষির ভবিষ্যতের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: Down to Earth; August 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

14 − two =