পৃথিবীর বুকে সূর্যের অভ্যন্তরীণ নিউক্লীয় ফিউশন বা সংযোজন প্রক্রিয়াকে কাজে লাগিয়ে প্রায় অসীম পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ তৈরির চেষ্টা চলছে। কিন্তু শুধু বিপুল শক্তি উৎপাদন করলেই ফিউশন বিদ্যুৎকেন্দ্র বাণিজ্যিকভাবে সফল হবে না। এর নির্মাণ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচও বিবেচনা করতে হবে। এই সমস্যার সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকেরা প্রস্তাব করেছেন নতুন একটি ‘Economic Q’ মাপকাঠি।
ফিউশনে সাধারণত Q factor দিয়ে বোঝানো হয়, একটি প্লাজমা থেকে যতটা ফিউশন শক্তি পাওয়া যাচ্ছে, সেটি চালু রাখতে বাইরে থেকে কতটা শক্তি দিতে হচ্ছে। Q = 1 হলে উৎপাদিত ও সরবরাহ করা শক্তি সমান, অর্থাৎ ব্রেক-ইভেন। ১৯৯৭ সালে যুক্তরাজ্যের Joint European Torus (JET) পরীক্ষায় Q-এর মান ০.৬৭ হয়েছিল। অন্যদিকে ফ্রান্সে নির্মীয়মাণ ITER পূর্ণমাত্রায় চালু হলে Q = ১০ অর্জনের লক্ষ্য রয়েছে।
গবেষকদের মতে, উচ্চ প্লাজমা Q পেলেই একটি ফিউশন কেন্দ্র অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। কারণ বাস্তবে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে বিপুল মূলধন প্রয়োজন। পাশাপাশি শক্তি উৎপাদনকে বিদ্যুতে রূপান্তরের দক্ষতা, যন্ত্রাংশের স্থায়িত্ব, রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিনিয়োগের ওপর প্রত্যাশিত লাভও গুরুত্বপূর্ণ।
এই বিষয়গুলো একসঙ্গে বিবেচনা করতেই গবেষকেরা ১০টি বৈজ্ঞানিক, প্রকৌশলগত ও অর্থনৈতিক পরিমানক নিয়ে নতুন এক কাঠামো তৈরি করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রটি নির্মাণে কত খরচ হবে, কত শক্তি ব্যবহার ও উৎপাদন হবে, ফিউশন শক্তিকে কতটা দক্ষতার সঙ্গে অর্থনৈতিক পণ্যে রূপান্তর করা যাবে এবং গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ কতদিন টিকে থাকবে।
সহজভাবে বললে, plasma Q মাপে কতটা শক্তি পাওয়া গেল, আর Economic Q মাপে সেই শক্তি উৎপাদন করে শেষ পর্যন্ত কতটা অর্থনৈতিক লাভ হল।
ফিউশন শিল্পে বিনিয়োগ দ্রুত বাড়ছে এবং অনেক সংস্থা ২০৩০-এর দশকেই বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করার আশা করছে। তাই গবেষকদের মতে, ফিউশনকে পরীক্ষাগার থেকে বাস্তব বিদ্যুৎবাজারে নিয়ে আসতে হলে সেটা প্রযুক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হওয়াও অপরিহার্য।
সূত্র: https://share.google/UcAR2R3EZqCXbthvy
