একটি পিঁপড়ের কখনও সোজা পথে দ্রুত এগিয়ে যাওয়া কিংবা এলোমেলো নতুন পথে হাঁটাকে বিজ্ঞানীরা ‘ র্যান্ডাম ওয়াক’ বলে থাকেন। ‘র্যান্ডাম ওয়াক’-এর ধারণাটি মূলত ব্যাকটেরিয়ার গতিবিধি সংক্রান্ত গবেষণা থেকে এসেছে। তবে ঐ একই মডেলের সঙ্গে পিঁপড়ের চলাফেরার মিল খুঁজে পেলেন জাপানের ওকিনাওয়ায় অবস্থিত OIST-এর গবেষকরা। জ্যাক ফেদারস্টোন এবং তাঁর দল ‘ইয়েলো ক্রেজি অ্যান্ট’-এর প্রায় ১০০টি শ্রমিক পিঁপড়ের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে। প্রতিটি পিঁপড়েকে আলাদা স্বচ্ছ বাক্সে রেখে প্রায় ২০ মিনিট করে ভিডিও করা হয়। পরে বিশেষ ট্র্যাকিং সফটওয়্যার দিয়ে তাদের মাথা, বুক ও উদরের গতিপথ বিশ্লেষণ করা হয়। তাতে দেখা যায়, পিঁপড়ের চলনে মূলত তিনটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। কিছুক্ষণ সোজা পথে হাঁটা, হঠাৎ থেমে যাওয়া এবং অনিয়মিত কোণে দিক পরিবর্তন। সাধারণত এক-দু সেকেন্ড পরপর এরা দিক বদলায়। তবে থামার সময়ের কোনও নির্দিষ্ট গড় মান নেই। বেশিরভাগ বিরতি খুব ছোট হলেও কিছু বিরতি অনেক দীর্ঘ। এই বৈশিষ্ট্যকে বিজ্ঞানীরা ‘পাওয়ার ল’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। মরুভূমির পঙ্গপালের চলনেও একই ধরনের বিরতি দেখা যায়। পিঁপড়েরা বেশিরভাগ সময় বাক্সের দেওয়ালের কাছাকাছি হাঁটছিল। ফলে দেওয়ালের প্রভাব হয়তো তাদের স্বাভাবিক চলনকে কিছুটা বদলে দিয়ে থাকতে পারে। তবে আরও বড় জায়গায় পরীক্ষা করলে পিঁপড়ের স্বাভাবিক গতিবিধি আরও স্পষ্টভাবে বোঝা সম্ভব হবে। এই মডেলটি পিঁপড়ের চলার ধরনকে ব্যাখ্যা করতে পারলেও কেন তারা এভাবে চলে, তার উত্তর দিতে পারেনি। মস্তিষ্কের কার্যকলাপ, পরিবেশ, খাদ্যের উপস্থিতি—অসংখ্য বিষয় পিঁপড়ের আচরণকে প্রভাবিত করতে পারে। পরবর্তী পর্যায়ে গবেষকেরা খাবার, প্রতিবন্ধক ও বিভিন্ন ধরনের পরিবেশ যুক্ত করে পরীক্ষা করতে চান। এতে বোঝা যেতে পারে, এই আক্রমণাত্মক ও দ্রুত ছড়িয়ে পড়া পিঁপড়েরা কোন ধরনের পরিবেশ ও খাদ্য পরিস্থিতি সবচেয়ে দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগাতে পারে।
সূত্র: Earth . com ; August 2026
