পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্র ও মিউঅন দূরবীক্ষণ 

পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্র ও মিউঅন দূরবীক্ষণ 

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ৯ অক্টোবর, ২০২৬

ঝড়ের ভিতরের বিদ্যুৎ মাপতে এতদিন বেলুন, বিমান বা রকেটের সাহায্য নিতে হত। এবার মাটি থেকেই বজ্রঝড়ের ‘ভোল্টেজ’ পড়ে ফেলল একটি টেলিস্কোপ। টেলিস্কোপের নজরে পূর্ব আকাশের ঝড় ধরা পড়েছে পশ্চিমের তুলনায় প্রায় ছ-গুণ বেশি। অথচ মাটিতে থাকা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলির তথ্য বলছে, পূর্ব ও পশ্চিমে ঝড়ের সংখ্যায় তেমন কোনও বড় ফারাক নেই। আসলে পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রের প্রভাবে টেলিস্কোপটি পূর্ব দিকের ঝড়কে বেশি সহজে ‘দেখতে’ পায়। ভারতের উটির পাহাড়ে থাকা এই GRAPES-3 মিউঅন টেলিস্কোপ আদপে বজ্রঝড় পর্যবেক্ষণের জন্য তৈরি হয়নি। এর কাজ মহাকাশ থেকে আসা মহাজাগতিক রশ্মির খোঁজ করা। এই রশ্মি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ধাক্কা খেলে, তৈরি হয় ‘মিউঅন’ নামের দ্রুতগতি কণার ঝরনা। আর সেই মিউনের ওঠানামা দেখেই বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারছেন, মেঘের ভিতরে কীভাবে তৈরি হচ্ছে বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র। অর্থাৎ, ঝড়ের ভিতরের বিদ্যুৎ মাপতে এই মিউঅন হয়ে উঠেছে এক ধরনের প্রাকৃতিক সেন্সর। ২০১১ থেকে ২০২০, দশ বছরে টেলিস্কোপটি ৪৮৭টি ঝড়ের সংকেত ধরেছে। তার ৮১.৫ শতাংশ এসেছে পূর্ব দিক থেকে, আর মাত্র ১৩.৭ শতাংশ পশ্চিম থেকে। অথচ মাটির আবহাওয়া-পরিমাপক যন্ত্র বলছে, পূর্ব-পশ্চিমে ঝড়ের সংখ্যায় এরকম ফারাক ছিল না। তাহলে রহস্যটা কোথায়? এর উত্তর লুকিয়ে আছে পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রে। এটি মহাকাশ থেকে আসা বৈদ্যুতিক-আধানযুক্ত কণার গতিপথ বদলে দেয়। ফলে উটির টেলিস্কোপে পূর্ব ও পশ্চিম দিক থেকে আসা মিউনের অনুপাত এক থাকে না। আর এই অসমতাই টেলিস্কোপকে পূর্বদিকের ঝড়ের প্রতি বেশি সংবেদনশীল করে তোলে। অর্থাৎ, পূর্বের ঝড় বেশি শক্তিশালী নয়, টেলিস্কোপ শুধু সেগুলিকে বেশি স্পষ্ট করে দেখতে পায়। টাটা ইনস্টিটিউট অব ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ, নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও চুবু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের কম্পিউটার সিমুলেশনেও একই ফল পাওয়া গেছে। বছরের পর বছর, দিন-রাত আকাশের বিশাল এলাকা নজরে রেখে এই পদ্ধতিতে বজ্রঝড়ের বৈদ্যুতিক আচরণ বোঝা এবং বজ্রপাতের মুহূর্তে কী ঘটে তা খতিয়ে দেখা সম্ভব হতে পারে। আপাতত গবেষকেরা বজ্রপাতের সঙ্গে তৈরি হওয়া অ্যান্টিম্যাটারের পরিমাণ মাপতে চান।

 

সূত্র: The muon charge asymmetry and the directional distribution of thunderstorm events observed by the GRAPES-3 muon telescope

B. Hariharan, S.K. Gupta, et. al ; Earth . com; October ; 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four − 3 =