প্রাচীন রসায়ন কৌশলে তৈরি সুপার গ্লাস

প্রাচীন রসায়ন কৌশলে তৈরি সুপার গ্লাস

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ২২ মে, ২০২৬

শতাব্দী প্রাচীন কাচ তৈরির একটি রাসায়নিক কৌশল ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা তৈরি করেছেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের এক নতুন ধরনের কাচ। গ্যাস সংরক্ষণ থেকে শুরু করে রাসায়নিক পৃথগীকরণ এবং উন্নত প্রযুক্তিতে বহুবিধ গুরুত্ব থাকবে এই কাচের। যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং টি ইউ ডর্টমুন্ড বিশ্ববিদ্যালয় সহ আন্তর্জাতিক গবেষক দল এই গবেষণার ফল প্রকাশ করেছে নেচার কেমিস্ট্রি জার্নালে। এই গবেষণার মূলে রয়েছে “MOF Glass” বা Metal-Organic Framework Glass নামে পরিচিত এক অভিনব উপাদান। MOF এক ধরনের জটিল কাঠামো, যেখানে ধাতব পরমাণুর সঙ্গে জৈব অণুগুলি জালের মতো যুক্ত থাকে। এই উপাদান গ্যাস যেমন কার্বন ডাই-অক্সাইড বা হাইড্রোজেন আটকে রাখতে পারে এবং জলও শোষণ করতে সক্ষম। ফলে ভবিষ্যতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, গ্যাস সংরক্ষণ এবং শিল্পক্ষেত্রে এর ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, MOF গ্লাসে সামান্য পরিমাণ সোডিয়াম বা লিথিয়ামযুক্ত রাসায়নিক যোগ করলে এর ভৌত বৈশিষ্ট্যে বড় পরিবর্তন আসে। এই সংযোজনের ফলে কাচ নরম হওয়ার তাপমাত্রা কমে যায় এবং গলিত অবস্থায় উপাদানটি আরও সহজে প্রবাহিত হয়। সাধারণত MOF গ্লাসকে ৩০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি তাপমাত্রায় নরম করতে হয়, যা তার ভেঙে যাওয়ার সীমার খুব কাছাকাছি। ফলে উৎপাদন প্রক্রিয়া কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন এই কৌশল সেই সমস্যার সমাধানে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই গবেষণায় বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ZIF-62 নামের একটি জনপ্রিয় MOF গ্লাস। এটি গলিয়ে পুনরায় ঠান্ডা করার পরও ভেতরের ক্ষুদ্র ছিদ্রযুক্ত গঠন কিছুটা বজায় রাখতে পারে। এই বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি গ্যাস পৃথগীকরণ, মেমব্রেন প্রযুক্তি এবং অনুঘটক তৈরিতে অত্যন্ত সম্ভাবনাময়।

গবেষকরা উন্নত Nuclear Magnetic Resonance (NMR) প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর কম্পিউটার মডেল ব্যবহার করে দেখেছেন, সোডিয়াম আয়ন শুধু ফাঁকা জায়গাই পূরণ করে না; এটি কাচের ভেতরের জিঙ্ক পরমাণুর কিছু অংশ প্রতিস্থাপন করে কাঠামোকেও সামান্য ঢিলা করে দেয়। এর ফলে কাচের আচরণ এবং বৈশিষ্ট্য বদলে যায়।

“ডিজাইনার গ্লাস’’ তৈরির পথে এই আবিষ্কার পথ প্রদর্শকের ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে এমন কাচ তৈরি করা সম্ভব হতে পারে, যার নকশা নির্দিষ্ট শিল্প বা প্রযুক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদাভাবে গড়ে নেওয়া যাবে। যদিও এর স্থায়িত্ব এবং বাস্তব ব্যবহার নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন, তবু বিজ্ঞানীরা মনে করছেন এই প্রযুক্তি একদিন উন্নত গ্যাস সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন শিল্প উপকরণ তৈরিতে বিপ্লব ঘটাতে পারে।

 

সূত্র: “Alkali-ion-modified zeolitic imidazolate framework glasses” by Pascal Kolodzeiski, Benjamin M. Gallant, et.al; 4th May 2026, Nature Chemistry.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fourteen − ten =