প্রায় ৬০ কোটি বছর আগে সমুদ্রে প্রাণীর বৈচিত্র্য ছিল সীমিত। কিন্তু এডিয়াকারান থেকে ক্যামব্রিয়ান পর্বে এসে হঠাৎই বদলে যায় সেই ছবি। দ্রুত বাড়তে থাকে প্রাণী-বৈচিত্র্য, তৈরি হয় নতুন নতুন বাস্তুতন্ত্র ও ইকোলজিক্যাল নিশ (niche) —যা পরিচিত ‘ক্যামব্রিয়ান রেডিয়েশন’ নামে। এই বিবর্তনের মূলে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল প্রাণীদের দেহে পরিপাকতন্ত্র বা অন্ত্রের আবির্ভাব। আর অন্ত্র থাকলে স্বাভাবিকভাবেই আসে মল। বিজ্ঞানীদের মতে, সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্রর পরিবর্তনের পিছনে এই মল এবং তার জীবাশ্ম, কোপ্রোলাইট-এর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। কোপ্রোলাইট থেকে জানা যায় কোটি কোটি বছর আগে প্রাণীরা কী খেত, খাদ্যশৃঙ্খলে তাদের অবস্থান কোথায় ছিল এবং বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে সম্পর্ক কেমন ছিল। ক্যামব্রিয়ানের শুরুতে কোপ্রোলাইট ছিল অল্প ও ছোট। কিন্তু মধ্য ক্যামব্রিয়ানে এসে এগুলির আকার ও বৈচিত্র্য বাড়তে থাকে। আধুনিক সমুদ্রে প্রাণীর মল-জাত কণাগুলি উপরিভাগের জৈব পদার্থ ও পুষ্টি ধীরে ধীরে গভীর সমুদ্রে পৌঁছে দেয়। ফলে সক্রিয় থাকে পুষ্টিচক্র। ক্যামব্রিয়ানেও প্রাণীর সংখ্যা ও বৈচিত্র্য বাড়ার সঙ্গে মলের পরিমাণ বেড়ে একই ধরনের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে থাকতে পারে। সেই জৈব পদার্থ গভীর সমুদ্রে পৌঁছে নতুন খাদ্য ও পুষ্টির উৎস তৈরি করে, যা সেখানে নতুন বাস্তুতন্ত্র গড়ে ওঠার পথ খুলে দিতে পারে। অর্থাৎ, অন্ত্রের আবির্ভাব শুধু খাদ্য হজমের নতুন ব্যবস্থা তৈরি করেনি—তৈরি করেছিল নতুন এক পুষ্টিচক্রও। তাই ক্যামব্রিয়ান বিস্ফোরণের গল্পে শক্ত খোলস, নতুন অঙ্গ বা বড় প্রাণীর পাশাপাশি উঠে আসে এক অপ্রত্যাশিত চরিত্র—কোপ্রোলাইট, অর্থাৎ কোটি বছরের পুরোনো প্রাণীর মল। এই ‘বর্জ্য’ই হয়তো গভীর সমুদ্রে জীবনের বিস্তারের পথ তৈরি করেছিল।
সূত্রঃ trends_ecology-evolution; Cell Press Journal
