প্রাণ-সম্ভাবনাময় বহির্গ্রহ 

প্রাণ-সম্ভাবনাময় বহির্গ্রহ 

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ১৩ মে, ২০২৬

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি একটি সম্ভাবনাময় বহির্গ্রহ GJ 887d-এর অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছেন। এটি লাল বামন নক্ষত্র GJ 887-এর কাছাকাছি, তার চারপাশে ঘুরছে। গ্রহটি প্রতি ৫০.৮ দিনে একবার কক্ষপথ সম্পূর্ণ করে। এর ভর পৃথিবীর অন্তত ছয় গুণ। উপযুক্ত পরিবেশ থাকলে এই গ্রহে তরল জল থাকতে পারে। ‘কাছাকাছি’ বললেও বাস্তবে এটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৬৩ ট্রিলিয়ন মাইল দূরে। তাই এটি এখনও পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষ। GJ 887 একটি কম শক্তির নক্ষত্র, যা সূর্যের তুলনায় অনেক কম আলো দেয়। এর ফলে এর বাসযোগ্য অঞ্চল নক্ষত্রের খুব কাছে অবস্থান করে। GJ 887d ওই অঞ্চলের মধ্যেই ঘুরছে এবং পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ৮০% শক্তি পাচ্ছে। এই গবেষণায় আরও তিনটি গ্রহের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে এবং একটি সম্ভাব্য নতুন গ্রহের সংকেতও পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক এই গবেষণাটি পরিচালনা করেন সি হরতোগ। তারা “রেডিয়াল ভেলোসিটি পদ্ধতি’’(নক্ষত্রের সূক্ষ্ম দোলন মেপে গ্রহ শনাক্ত করার কৌশল) ব্যবহার করেন। পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত হয়েছে হার্পস স্পেকট্রোগ্রাফ, এসপ্রেসো স্পেকট্রোগ্রাফ। তবে একটি বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে, গ্রহটির কি বায়ুমণ্ডল আছে? বায়ুমণ্ডল থাকলে তা তাপ ধরে রেখে জলকে তরল রাখতে পারে, আবার তাপ অতিরিক্ত হলে গ্রহটিকে শুক্রগ্রহের মতো অত্যন্ত গরমও করে তুলতে পারে। তাছাড়া, লাল বামন নক্ষত্রের তীব্র বিকিরণ অনেক সময় বায়ুমণ্ডল নষ্ট করে দেয়। তবে GJ 887 তুলনামূলকভাবে শান্ত, যা একটা ইতিবাচক দিক। গ্রহটি পৃথিবী থেকে প্রায় ১১ আলোকবর্ষ দূরে। এত দূরে যাওয়া বর্তমান প্রযুক্তিতে অসম্ভব। পার্কার সৌর অনুসন্ধানকারী মহাকাশযানের গতিতেও সেখানে পৌঁছাতে হাজার হাজার বছর লাগবে। তাই বিজ্ঞানীরা দূর থেকেই আলো বিশ্লেষণ করে তথ্য সংগ্রহ করছেন, যাকে বলা হয় “দূরবর্তী অনুধাবন’’। সব মিলিয়ে, GJ 887d এখনও প্রাণের প্রমাণ দিচ্ছে না বটে, কিন্তু সে সম্ভাবনাময় লক্ষ্যগুলোর তালিকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। এর নিকটবর্তিতা ও নক্ষত্রের স্থিতিশীলতা ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য একে বিশেষভাবে মূল্যবান করে তুলেছে।

 

সূত্র: Econews ; May ; 2026.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

14 − twelve =