মানুষের মতো বিড়ালও আক্রান্ত হতে পারে বিরল জিনঘটিত রোগ মারফান সিনড্রোমে। সম্প্রতি আমেরিকার কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা গ্যারি ও শ্যাগি নামে দুই পোষা বিড়ালের শরীরে এই রোগের প্রথম আণবিক প্রমাণ পেয়েছেন। সায়েন্টিফিক রিপোর্ট পত্রিকায় ১৯ শে সেপ্টেম্বর ২০২৬- এ এই গবেষণার বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে। এই রোগটির জন্য দায়ী জিনের পরিব্যক্তি থাকা সত্ত্বেও বিড়াল দুটি প্রাপ্তবয়স্ক বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিল।
মারফান সিনড্রোম একটি বিরল বংশগত রোগ, যা শরীরের সংযোজক কলাকে দুর্বল করে দেয়। সংযোজক কলার ভূমিকা রক্তনালি, হাড়, লিগামেন্ট, ত্বক ও চোখের গঠন এবং স্বাভাবিক কাজকর্মে গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের ক্ষেত্রে প্রতি চার হাজার জনে প্রায় একজন এই রোগে আক্রান্ত হন। এর জন্য দায়ী FBN1 জিন। এই জিন থেকে তৈরি হয় ফাইব্রিলিন-১ নামের একটি প্রোটিন, যা সংযোজক কলার গঠনের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
গ্যারি ও শ্যাগির শরীরে ছোটবেলা থেকেই রোগের লক্ষণ দেখা গিয়েছিল। বিড়ালছানা অবস্থাতেই তাদের পা অস্বাভাবিক লম্বা ছিল। পরবর্তী পরীক্ষায় চোখের গঠনে সমস্যা এবং হৃদ্যন্ত্র থেকে শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্ত পৌঁছে দেওয়া প্রধান ধমনি অ্যাওর্টার অস্বাভাবিক প্রসারণ ধরা পড়ে। এই লক্ষণগুলি দেখে পশুচিকিৎসকেরা ওদের মারফান সিনড্রোম আছে বলে সন্দেহ করেন।
রোগের প্রকৃত কারণ জানতে গবেষকেরা বিড়াল দুটির শারীরিক পরীক্ষা ও জিন বিশ্লেষণ করেন। পরীক্ষায় দেখা যায়, প্রত্যেকেই বাবা ও মায়ের কাছ থেকে FBN1 জিনের একটি করে পরিব্যক্ত জিনের অনুলিপি পেয়েছে। অর্থাৎ, উভয়ের শরীরেই জিনটির দুটি করে পরিব্যক্ত অনুলিপি রয়েছে। মানুষের ক্ষেত্রে এমন অবস্থা অত্যন্ত বিরল এবং সাধারণত রোগের তীব্রতা বাড়াতে পারে।
তবে বিড়াল দুটির জিনগত পরিবর্তনটি জিনের কার্যকারিতা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়নি। কেবল জিনের নির্দেশনা প্রক্রিয়াকরণের একটি অংশে ব্যাঘাত ঘটিয়েছে। ফলে কিছুটা স্বাভাবিক প্রোটিন তৈরি হওয়ার সুযোগ রয়ে গিয়েছিল। গবেষকদের মতে, এই আংশিক কার্যকারিতাই সম্ভবত বিড়াল দুটিকে রোগের আরও গুরুতর পরিণতি থেকে রক্ষা করেছে।
এই আবিষ্কার পশুচিকিৎসায় রোগ শনাক্তকরণে নতুন পথের দিশা দেখাতে পারে। ভবিষ্যতে একই ধরনের লক্ষণযুক্ত বিড়ালের ক্ষেত্রে জিন পরীক্ষা ও দ্রুত রোগ নির্ণয়ে গবেষণাটি সহায়ক হবে। পাশাপাশি, জিনের সামান্য কার্যকারিতা কীভাবে বিরল বংশগত রোগের তীব্রতাকে প্রভাবিত করে, তা বোঝার ক্ষেত্রেও এই গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: https://scitechdaily.com/these-feline-brothers-are-the-first-cats-ever-documented-with-marfan-syndrome/
