ভারতে বাঘের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩,৬৮২-তে। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৭৫ শতাংশ বাঘ ভারতের জঙ্গলেই রয়েছে। কিন্তু এই সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে অন্য এক বড় উদ্বেগ। ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটি-র সদ্য প্রকাশিত ‘রোডম্যাপ ফর অ্যাকটিভ ম্যানেজমেন্ট অব টাইগার্স ইন ইন্ডিয়া’ প্রতিবেদন বলছে, দেশের ৫৮টি টাইগার রিজার্ভের মধ্যে ৩৮টিতেই রয়েছে শিকারের অভাব, দুর্বল আবাসস্থল বা এই দুই-এরই সমস্যা। ৩৬টি রিজার্ভে পর্যাপ্ত শিকার নেই। আবার ১৭টি রিজার্ভে শিকার ও আবাস—দুটিরই গুরুতর ঘাটতি রয়েছে। মাত্র ২০টি রিজার্ভে পর্যাপ্ত শিকার ও উন্নত আবাসস্থল থাকায় বাঘের সংখ্যা স্থিতিশীল রয়েছে বা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২২ সালের জাতীয় ব্যাঘ্র গণনা তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ৯টি টাইগার রিজার্ভে বাঘ নেই বা প্রায় নেই, আর ২৫টি রিজার্ভে বাঘের সংখ্যা কমছে। দেশের মোট ৩,৬৮২টি বাঘের মধ্যে ২,৩৩৮টি বাঘই, টাইগার রিজার্ভের আওতায় থাকলেও ১,৩৪৪টি রয়েছে সংরক্ষিত এলাকার বাইরেই। ফলে এই বাঘগুলি শিকার, বনভূমি ধ্বংস এবং মানুষের সঙ্গে সংঘাত প্রভৃতি ঝুঁকির মুখেই থাকছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি রয়েছে মিজোরামের ডাম্পা, তেলেঙ্গানার কাওয়াল, ওড়িশার সাতকোসিয়া, মহারাষ্ট্রের সাহ্যাদ্রি এবং অরুণাচল প্রদেশের কামলাং টাইগার রিজার্ভে, যেখানে বাঘের কোনও স্থায়ী অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ঝাড়খণ্ডের পালামৌ ও পশ্চিমবঙ্গের বক্সা রিজার্ভে মাত্র একটি করে বাঘের উপস্থিতি ধরা পড়েছে। তবে বক্সায় দেখা বাঘটি সম্ভবত ভুটান থেকে এসেছিল। অন্যদিকে মধ্যপ্রদেশ, কর্নাটক, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, কেরল, উত্তরাখণ্ড, বিহার, অসম এবং সুন্দরবন-এ বাঘ সংরক্ষণে ইতিবাচক ফল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞ কামার কুরেশি বলেন, “দেশের প্রায় অর্ধেক টাইগার রিজার্ভে দরকার আবাসস্থলের উন্নয়ন, আগ্রাসী উদ্ভিদ অপসারণ, হরিণ-সহ শিকার প্রাণীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং আরও শক্তিশালী সুরক্ষা ব্যবস্থা”। একই সঙ্গে বিভিন্ন বনাঞ্চলকে সংযুক্ত করা টাইগার করিডর চিহ্নিত ও উন্নত করার উপরও তিনি জোর দেন। সুতরাং শুধু বাঘের সংখ্যা বাড়লেই সংরক্ষণ সফল বলা যায় না। দীর্ঘমেয়াদে বাঘ টিকিয়ে রাখতে হলে শিকারযোগ্য প্রাণীর প্রাচুর্য, নিরাপদ আবাসস্থল এবং কার্যকর বন করিডর গড়ে তোলা দরকার। সেটাই এখন বড়ো চ্যালেঞ্জ।
সূত্র: Down to Earth; Aug ; 2026
