ভবিষ্যতের কম্পিউটার : খরচ কম, কাজ বেশি 

ভবিষ্যতের কম্পিউটার : খরচ কম, কাজ বেশি 

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ২ জুলাই, ২০২৬

বিজ্ঞানীরা এমন একটি নতুন চৌম্বক সুইচিং ডিভাইস তৈরি করেছেন, যা ভবিষ্যতের প্রসেসরকে বর্তমান সিলিকনভিত্তিক প্রযুক্তির তুলনায় প্রায় এক হাজার গুণ দ্রুত কাজ করতে সাহায্য করতে পারে। একই সঙ্গে এটি বিদ্যুৎ খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনবে হয়তো। নতুন ডিভাইসটি তৈরি করা হয়েছে ম্যাঙ্গানিজ-টিন (Mn3Sn) নামের একটি অ্যান্টিফেরোম্যাগনেটিক পদার্থ এবং ট্যানটালাম ব্যবহার করে। সাধারণ চুম্বকে সব ক্ষুদ্র চুম্বক একই দিকে থাকে বলে সেটি শক্তিশালী চৌম্বকীয় ক্ষেত্র তৈরি করে। কিন্তু অ্যান্টিফেরোম্যাগনেটিক পদার্থে অর্ধেক একদিকে এবং বাকি অর্ধেক বিপরীত দিকে থাকে। তাই মোট চৌম্বকত্ব প্রায় শূন্য হয়। আর ট্যানটালাম একটি বিরল, শক্ত রূপালি-ধূসর ধাতু । এটি তাপ ও ক্ষয় প্রতিরোধে অত্যন্ত সক্ষম এবং বিদ্যুৎ পরিবহণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গবেষকদের দাবি, মাত্র ৪০ পিকোসেকেন্ডের বৈদ্যুতিক পালসের মাধ্যমেই এটি চৌম্বক অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারে। এত অল্প সময়ে সুইচিং করতে পারা কম্পিউটার প্রযুক্তিতে এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বর্তমানে ব্যবহৃত অধিকাংশ প্রসেসর সিলিকনভিত্তিক। এগুলোর গতি বাড়ানোর চেষ্টা করলে প্রসেসরের ভেতরে বিদ্যুতের প্রবাহের কারণে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়। এই অতিরিক্ত তাপ নিয়ন্ত্রণ করতে বড় আকারের কুলিং সিস্টেমের প্রয়োজন হয়, যা বিশেষ করে ডেটা সেন্টারগুলোতে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। অ্যান্টিফেরোম্যাগনেটিক পদার্থ খুব কম শক্তি ব্যবহার করে অত্যন্ত দ্রুত চৌম্বক অবস্থা পরিবর্তন করতে সক্ষম। ফলত প্রচলিত প্রযুক্তির মতো এতে অতিরিক্ত তাপ উৎপন্ন হয় না। তাই প্রসেসরের গতি বাড়লেও শক্তির অপচয় এবং তাপের পরিমাণ অনেক কম থাকবে। এর অন্যতম বড় সুবিধা এটি উদ্বায়ী নয়। অর্থাৎ বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলেও এ তথ্য ধরে রাখতে পারে। তাই ডেটা সংরক্ষণের জন্য সব সময় বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রয়োজন হয় না। এতে আরও বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয় সম্ভব হবে। বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং বড় বড় ডেটা বিশ্লেষণের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডেটা সেন্টারের সংখ্যাও। এসব ডেটা সেন্টার পরিচালনায় বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ লাগে, যার একটি বড় অংশ ব্যয় হয় শুধু যন্ত্রপাতি ঠান্ডা রাখতে। নতুন প্রযুক্তি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ চাহিদা এবং শীতলীকরণের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে পরিবেশের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে গবেষণাটি এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে। বাণিজ্যিকভাবে এটি ব্যবহারযোগ্য কম্পিউটার চিপে যুক্ত হতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে।

 

সূত্র: Live Science, June ; 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

13 + 6 =