উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ও টেকসই ব্যাটারি প্রযুক্তির সন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার জন্য ২০২৬ সালের ইইএস লেকচারশিপ পেলেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাদানবিজ্ঞানী প্রফেসর রবার্ট হাউস। এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স (EES)-এর আওতাভুক্ত শক্তি-গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই উদীয়মান এই গবেষককে পুরস্কারটি দেওয়া হয়েছে।
অক্সফোর্ডের ডিপার্টমেন্ট অফ মেডিসিনে গবেষকগোষ্ঠীকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন হাউস। তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল উন্নত লিথিয়াম-আয়ন ও পরবর্তী প্রজন্মের ব্যাটারির জন্য নতুন উপাদান আবিষ্কার ও তাদের কার্যপ্রণালী বোঝা। এ কাজে তিনি এক্স-রে ও নিউট্রন স্ক্যাটারিং প্রভৃতি উন্নত প্রযুক্তিতে ব্যাটারির ভিতরে আয়নের চলাচল, চার্জ সঞ্চয় এবং উপাদানের গঠন-কার্যকারিতার সম্পর্ক অনুসন্ধান করেন।
তাঁর বিশেষ অবদান লিথিয়াম-সমৃদ্ধ অক্সিজেন-রেডক্স ক্যাথোড গবেষণায়। এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স, নেচার এবং নেচার মেটেরিয়ালস-এ প্রকাশিত গবেষণায় তিনি চার্জ হওয়ার সময় অক্সিজেনের জারণ, ব্যাটারির ভোল্টেজের ওঠানামা এবং সময়ের সঙ্গে কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার পেছনে অক্সিজেনের ভূমিকা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা তুলে ধরেছেন। ব্যাটারির শক্তি-ঘনত্ব বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও এই গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ।
হাউস রয়্যাল অ্যাকাডেমি অব ইঞ্জিনিয়ারিং-এর প্রথম Green Future Fellows-এর অন্যতম। সেখানে তিনি বৈদ্যুতিক উড়ানের জন্য উচ্চ-শক্তি-ঘনত্বের লিথিয়াম ব্যাটারি তৈরির একটি ১০ বছরের গবেষণা কর্মসূচির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। একই সঙ্গে ফ্যারাডে ইন্সটিটিউশানের-এর 3D-CAT প্রকল্পের প্রধান গবেষক হিসেবে লিথিয়াম-সমৃদ্ধ ডিসঅর্ডারড রক সল্ট/ডি আর এক্স ক্যাথোড নিয়ে কাজ করছেন। তাঁর গবেষকগোষ্ঠী টেকসই ও সহজলভ্য উপাদান ব্যবহার করে সোডিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম-আয়ন ব্যাটারির জন্যও নতুন ক্যাথোড তৈরির চেষ্টা করছে।
২০২১ সালে অক্সফোর্ডে নিজস্ব গবেষণাগোষ্ঠী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন হাউস। এর আগে তিনি রয়্যাল অ্যাকাডেমি অব ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ ফেলোশিপ লাভ করেন। তিনি অক্সফোর্ডের ZERO Institute ও Keble College-এর সম্মানিত সদস্য এবং ২০২৩ সালে ফোর্বস-এর “30 Under 30” তালিকায় স্থান পান। ৪০টির বেশি গবেষণাপত্রে তাঁর অবদান রয়েছে, যেগুলোর উল্লেখ সংখ্যা ৫,৩০০-এরও বেশি। ২০২০ সালে অক্সফোর্ড থেকে উপাদানবিজ্ঞানে পিএইচ ডি করেন তিনি। তাঁর গবেষণা দেখাল, ভবিষ্যতের ব্যাটারি শুধু বেশি শক্তি ধারণ করলেই হবে না, তার উপাদানের গঠন, স্থায়িত্ব ও পরিবেশগত স্থায়িত্বও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: Royal Society of Chemistry
