‘ভূতুড়ে বংশধারা’: ভূতপূর্ব মানুষ

‘ভূতুড়ে বংশধারা’: ভূতপূর্ব মানুষ

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ২৭ আগষ্ট, ২০২৬

আমাদের ডিএনএর মধ্যেই লুকিয়ে আছে বহু প্রজন্মের পূর্বপুরুষের ইতিহাস। নিয়ান্ডারথালদের সঙ্গে প্রাচীন মানুষের আন্তঃপ্রজননের কথা জানা থাকলেও, নতুন গবেষণায় পাওয়া গেছে, আরও এক রহস্যময় বিলুপ্ত মানবগোষ্ঠীর জিনগত ছাপ। এমন মানবগোষ্ঠী যাঁদের কোনও জীবাশ্ম থেকে ডিএনএ এখনও উদ্ধার হয়নি। তাই তাদের বলা হচ্ছে ‘ঘোস্ট লিনিয়েজ’ বা ‘ভূতুড়ে বংশধারা’। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কলি ও জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা ৫০৩টি আধুনিক মানুষের জিনোম বিশ্লেষণ করে এই রহস্যময় উত্তরাধিকারের সন্ধান পেয়েছেন। তাঁদের তৈরি ‘ট্রেস’ কম্পিউটার প্রোগ্রাম, জিনোমের এমন কিছু অংশ শনাক্ত করেছে যেগুলির ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন। আশ্চর্যের বিষয়, এই রহস্যময় পূর্বপুরুষের ডিএনএ আজকের প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই রয়েছে। দক্ষিণ এশীয়দের জিনোমে এর পরিমাণ প্রায় ০.৫ শতাংশ, পশ্চিম আফ্রিকানদের ক্ষেত্রে ১.১ শতাংশ—নিয়ান্ডারথাল ও ডেনিসোভানদের মিলিত অবদানের তুলনায় প্রায় দশ গুণ বেশি। ডিএনএর ছোট টুকরোগুলি ইঙ্গিত দেয়, এই আন্তঃপ্রজনন নিয়ান্ডারথালদের সঙ্গে মেলামেশারও আগে ঘটেছিল। ওশেনিয়ার ৯২টি জিনোমে গবেষকেরা ডেনিসোভান ডিএনএর মধ্যে প্রায় ১৭.৭ লক্ষ বছর পুরনো প্রাচীনতর ডিএনএর সন্ধান পেয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, কোনও প্রাচীন মানবগোষ্ঠী প্রথমে ডেনিসোভানদের সঙ্গে মিশেছিল। পরে ডেনিসোভানদের মাধ্যমে সেই ডিএনএ আধুনিক মানুষের শরীরে পৌঁছয়। এই জিনগত উত্তরাধিকার কেবল ইতিহাসের কৌতূহল নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ভূতুড়ে ডিএনএ এমন কিছু জিনেও রয়েছে, যেখানে নিয়ান্ডারথাল বা ডেনিসোভান ডিএনএ প্রায় নেই। এসব জিনের কিছু অংশ সংক্রমণ প্রতিরোধ ও শরীরে চর্বি পরিবহণে গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ, প্রাচীন এই আন্তঃপ্রজনন হয়তো নতুন রোগজীবাণু, পরিবেশ ও খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে মানিয়ে নিতে মানুষকে সাহায্য করেছিল। তবে এই রহস্যময় পূর্বপুরুষ কারা ছিলেন, তা এখনও জানা যায়নি। গবেষকদের মতে, ৫ লক্ষ বছরেরও বেশি আগে তারা আমাদের বংশধারা থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছিল। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উঠে আসছে হোমো হাইডেলবার্গেনসিস বা প্রাচীনতর হোমো ইরেক্টাস।

 

সূত্র: Earth . com; August; 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 − 4 =