রাসায়নিক পরিবর্তন নয়, চাপ প্রয়োগ নয়,তীব্র আলোও নয়, কেবলমাত্র কোয়ান্টাম শূন্যস্থানের ওঠাপড়াকে কাজে লাগিয়েই বাড়ানো যেতে পারে অতিপরিবাহিতা! পদ্ধতিটির নাম ‘ভ্যাকুয়াট্রনিক্স’। চীনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাংগান জেং এবং গুয়াংহুই চেং-এর নেতৃত্বে একটি দল পরীক্ষা চালিয়ে এর প্রমাণ দিয়েছেন। কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যায় শূন্যস্থান বলে আদপে কিছু নেই, সর্বত্র ক্রমাগত ওঠানামা করে তড়িৎচুম্বকীয় ক্ষেত্র। আর তড়িৎচুম্বকীয় ক্ষেত্রের এই ওঠাপড়াকে কাজে লাগিয়ে পদার্থের ধর্ম বদলানোর সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা চলছিল অনেক দিন ধরেই। নতুন পরীক্ষায় গবেষকেরা স্তরযুক্ত সুপারকন্ডাক্টর নিওবিয়াম ডিসেলেনাইড (NbSe₂)-এর একটি অংশ বিশেষ আঁধার গহ্বরের (‘ডার্ক ক্যাভিটি’) ভিতরে রাখেন। দেখা যায়, গহ্বরের ভিতরে পদার্থটির সংকট তাপমাত্রা বাইরের অংশের তুলনায় সর্বোচ্চ ৫.৪ শতাংশ বেড়েছে। বেড়েছে সংকট প্রবাহমাত্রা ও সংকট চৌম্বক ক্ষেত্রও। অথচ গহ্বরের ভিতরে কোনও আলো ফেলা হয়নি, বাইরের শক্তিও সরবরাহ করা হয়নি। শাংহাই জিয়াং তং বিশ্ববিদ্যালয়ের কিংদং জিয়াং এবং অ্যামেরিকার এম আই টি-র পাদর্থবিজ্ঞান বিভাগের ফ্র্যাঙ্ক উইলজেক এই পরিঘটনার এক তাত্ত্বিক মডেল তৈরি করেছেন। তাঁদের মতে, অতিপরিবাহী দশাটি ভার্চুয়াল ফোটন বিনিময় করে আঁধার গহ্বরের সঙ্গে। এর ফলে এই দশার শক্তিমাত্রা কমে আসে আর তারই ফলে বেড়ে যায় অতিপরিবাহিতা। সচরাচর কার্যক্ষেত্রে শূন্যাবস্থা যেন এক নিষ্ক্রিয় মঞ্চ রূপে ক্রিয়া করে। কিন্তু এই পরীক্ষায় দেখানো গেল যে পটভূমির ওই মঞ্চটাই যেন হয়ে উঠল অভিনেতা। বিশেষ কারিগরির সাহায্যে তাকে কাজে লাগিয়ে অতিপরিবাহিতার শক্তি বাড়ানো যায়, কোয়ান্টাম পদার্থের গড়ন বদলানো যায়। এই প্রক্রিয়ার আণুবীক্ষণিক কারণ বুঝতে এখন আরও গবেষণা চলবে। এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে সুপারকন্ডাক্টিং সার্কিট, কোয়ান্টাম সেন্সর ও অন্যান্য কোয়ান্টাম প্রযুক্তিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। আপাতত ফল সীমিত হলেও, শূন্যাবস্থাকে কাজে লাগিয়ে পদার্থের ধর্ম নিয়ন্ত্রণের নতুন দিশা দেখাচ্ছে ভ্যাকুয়াট্রনিক্স।
সুত্র: Physics world; September, 2026
