মশার কামড় বিশ্বের বহু অঞ্চলে একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির উৎস। বিশেষ করে এডিস ইজিপ্টাই প্রজাতির মশা ডেঙ্গি, জিকা ও ইয়েলো ফিভারের মতো ভাইরাস ছড়ায়। ডেঙ্গি, জিকা, ইয়েলো ফিভার বা ম্যালেরিয়ার মতো রোগ ছড়িয়ে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যু ও অসুস্থতার কারণ হয় মশা। বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরেই জানার চেষ্টা করছেন, মশা কীভাবে এত নিখুঁতভাবে মানুষকে খুঁজে বের করে। এতদিন জানা ছিল, মানুষের নিঃশ্বাসের কার্বন ডাই-অক্সাইড, শরীরের গন্ধ, ত্বকের তাপ ও আর্দ্রতা ব্যবহার করেই তারা লক্ষ্য ঠিক করে। এবার নতুন গবেষণায় জানা গেল, মশা মানুষের শরীর থেকে বের হওয়া অবলোহিত বিকিরণও শনাক্ত করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান্তা বারবারার গবেষকেরা দেখেছেন, মানুষের শরীরের তাপমাত্রার কাছাকাছি অবলোহিত বিকিরণ থাকলে মশার মানুষের দিকে আকৃষ্ট হওয়ার প্রবণতা প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে যায়। শুধু গন্ধ বা কার্বন ডাই-অক্সাইড নয়, এই তাপতরঙ্গও তাদের পথ দেখায়। গবেষণায় স্ত্রী মশাদের দুটি আলাদা পরিবেশে রাখা হয়। দু’জায়গাতেই মানুষের গন্ধ ও নিঃশ্বাসের মতো কার্বন ডাই-অক্সাইড ছিল। তবে এক জায়গায় বাড়তি হিসেবে মানুষের ত্বকের সমতুল্য অবলোহিত বিকিরণ দেওয়া হয়। দেখা যায়, সেই দিকেই মশারা বেশি ভিড় করছে। মশার চোখ খুব শক্তিশালী নয়, আবার বাতাসে গন্ধও সহজে ছড়িয়ে যায়। তাই শরীরের অবলোহিত বিকিরণ তাদের জন্য নির্ভরযোগ্য সংকেত হিসেবে কাজ করে। আসলে মশার হুলের ডগায় থাকা বিশেষ স্নায়ুকোষ এই তাপতরঙ্গ শনাক্ত করতে সাহায্য করে। এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে আরও কার্যকর মশার ফাঁদ তৈরিতে কাজে লাগতে পারে। পাশাপাশি কেন ঢিলেঢালা পোশাক মশার কামড় কমায়, তারও ব্যাখ্যা মিলেছে। এমন পোশাকে শরীরের অবলোহিত বিকিরণ নানা ছড়িয়ে পড়ে, ফলে মশার পক্ষে মানুষকে খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়।
সূত্র: Earth . com ; May ; 2026
