মস্তিষ্কে খিঁচুনি শুরু হওয়ার পর কোন দিক দিয়ে ছড়িয়ে পড়ে? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে জেব্রাফিশের মস্তিষ্কে খিঁচুনির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেছেন গবেষকেরা। এ জন্য ত্রিমাত্রিক উপায়ে খিঁচুনি ছড়িয়ে পড়ার ছবি তোলার এক নতুন পদ্ধতি তৈরি করেছেন জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা। বিশেষ লাইট-শিট মাইক্রোস্কোপ দিয়ে তাঁরা দেখেছেন, জেব্রাফিশের মস্তিষ্কের পেছন থেকে খিঁচুনি শুরু হয়ে ধীরে ধীরে সামনের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। আগের একটি ত্রিমাত্রিক গবেষণাতেও একই ছবি দেখা যায়। তবে দ্বিমাত্রিক দুটি পুরনো গবেষণায় এর একেবারে বিপরীত চিত্র ফুটে ওঠে। প্রধান গবেষক পিটার কনার বলছেন, এই ভিন্ন ফল থেকে বোঝা যাচ্ছে, খিঁচুনি কিভাবে ছড়ায় তা এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। বিষয়টি বুঝতে আরও বেশি ত্রিমাত্রিক ইমেজিং দরকার। সাধারণ মাইক্রোস্কোপে মস্তিষ্কের একেবারে একটি পাতলা অংশের ছবি তোলা যায়। কিন্তু এই নতুন পদ্ধতিতে পাতলা আলোর একটি স্তর, মস্তিষ্কের ভেতরে দ্রুত বিভিন্ন জায়গায় সরিয়ে ছবি তোলা হয়। পরে সেই ছবিগুলি মিলিয়ে তৈরি হয় মস্তিষ্কের ত্রিমাত্রিক ছবি। তবে এভাবে ফোকাস বদলাতে গিয়ে ছবিতে কিছুটা বিকৃতি এসে পড়ে। গবেষকেরা একটি বিশেষ নমনীয় আয়না ব্যবহার করে সেই সমস্যার সমাধান করেছেন। ফলে দ্রুত এবং পরিষ্কার ত্রিমাত্রিক ছবি তোলা সম্ভব হয়েছে। এই পদ্ধতিতে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় চারটি ত্রিমাত্রিক ছবি তোলা যায়। প্রায় আড়াই মিনিট ধরে জেব্রাফিশের মস্তিষ্ক পর্যবেক্ষণ করে গবেষকেরা দেখেন, খিঁচুনি পিছন থেকে সামনে ছড়িয়ে পড়ছে এবং দশ সেকেন্ডের কয়েক এককের মধ্যে ধীরে ধীরে থেমে যাচ্ছে। তবে জেব্রাফিশের ক্ষেত্রে এই ফল পাওয়া গেলেই যে মানুষের মস্তিষ্কেও খিঁচুনি একইভাবে ছড়ায়, তা বলা যাবে না। গবেষকদের আশা, এই ধরনের ত্রিমাত্রিক প্রযুক্তি ভবিষ্যতে খিঁচুনির গতিবিধি এবং মৃগীর চিকিৎসাকে নিয়ন্ত্রণ আনতে সাহায্য করবে।
সূত্র: Physicsworld; September 2026
