মহাকাশে প্রাণের খোঁজ – আশা ও আশঙ্কা

মহাকাশে প্রাণের খোঁজ – আশা ও আশঙ্কা

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

একের পর এক মহাকাশ মিশন যত এগোচ্ছে, অন্য গ্রহ বা মহাজাগতিক বস্তুর অণুজীবের সন্ধান পাওয়ার সম্ভাবনাও তত বাড়ছে। কিন্তু সত্যিই যদি এমন জীবের সন্ধান মেলে, পৃথিবী তার ধাক্কা কতটা সামলাতে পারবে? এলিয়েন বলতেই আমাদের মাথায় বুদ্ধিমান প্রাণীর ছবি ভেসে ওঠে। অথচ বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবীর বাইরে বুদ্ধিমান প্রাণীর চেয়ে অণুজীবের সন্ধান পাওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। আর সেটুকুই বিজ্ঞানের ধারণাকে আমূল বদলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। ইতিমধ্যেই মঙ্গলগ্রহে বিপুল পরিমাণ বরফ ও তরল জলের সন্ধান মিলেছে। জাপানের হায়াভুশা ২ মিশনে আনা গ্রহাণুর নমুনায় পাওয়া গেছে ইউরাসিল, যা কিনা আর এন এ-র অন্যতম উপাদান। ইউরোপা ও বৃহস্পতির বরফে ঢাকা উপগ্রহ নিয়ে চলছে একের পর এক অভিযান। ভবিষ্যতে শনির এনসেলাডাসেও প্রাণের চিহ্ন খোঁজার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে মহাকাশে ক্ষুদ্র প্রাণের সন্ধান এখন আর নিছক কল্পনা নয়। কিন্তু তেমন সন্ধান সত্যিই পাওয়া গেলে কী হবে? ১৯৬৭ সালের আউটার স্পেস ট্রিটি বলছে, মহাকাশ-কে শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহার করতে হবে এবং চাঁদ বা অন্য মহাজাগতিক বস্তুর উপর কোনও দেশ মালিকানা দাবি করতে পারবে না। কিন্তু মহাকাশে যদি জীবাণু পাওয়া যায়, তার মালিক কে হবে, কিভাবে গবেষণা হবে, পৃথিবীতে তা ছড়িয়ে পড়লে কি করা হবে-এসব নিয়ে এই চুক্তিতে স্পষ্ট কোনও নিয়ম নেই। অর্থাৎ, এলিয়েন জীবাণু পাওয়া গেলে বিজ্ঞান যতটা প্রস্তুত, আন্তর্জাতিক আইন সম্ভবত ততটা প্রস্তুত নয়। এরপর সামনে আসতে পারে দুটো সম্পূর্ণ বিপরীত ছবি। একদিকে, দেশগুলি একজোট হয়ে তথ্য ভাগ করে নিতে পারে, গবেষণার নিয়ম বানাতে পারে এবং পৃথিবীকে সম্ভাব্য জৈবঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে পারে। গ্রহাণুর আঘাত ঠেকানোর আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের মতো মডেল তার উদাহরণ। অন্যদিকে, শুরু হতে পারে নতুন মহাকাশ-দৌড়। কোন দেশ আগে সেই জীবাণু পাবে, কে তার গবেষণার নিয়ন্ত্রণ নেবে, কে তার সম্ভাব্য প্রযুক্তিগত বা অর্থনৈতিক সুবিধা কাজে লাগাবে, তা নিয়ে শুরু হতে পারে তীব্র প্রতিযোগিতা। আর মহাকাশের কোনও অণুজীব থেকে যদি নতুন ওষুধ, কৃষি প্রযুক্তি বা শক্তি উৎসের সন্ধান পাওয়া যায়, তবে তার মূল্য হবে বিপুল। আবার সেই জীব বা তার বৈশিষ্ট্য ভুল হাতে পড়লে তৈরি হতে পারে নতুন ধরনের জৈবনিরাপত্তা ঝুঁকি। তাই মহাকাশে প্রথম অণুজীব আবিষ্কারের দিনটি শুধু বিজ্ঞানের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় খুলবে না, সেদিন থেকেই শুরু হতে পারে নতুন ভূ-রাজনীতি এবং নতুন জৈবনিরাপত্তার লড়াই।

সূত্র: Nautilus; September 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fourteen − one =