যখন প্রাচীন মিশরে পিরামিড তৈরি হচ্ছিল, তখন সিন্ধু সভ্যতার মানুষ গড়ে তুলছিলেন সুপরিকল্পিত আধুনিক শহর। প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ২৬০০ সাল থেকে তৈরি হওয়া মহেঞ্জোদাড়ো ও অন্যান্য শহরে ছিল গ্রিড পদ্ধতির রাস্তা এবং উন্নত নিকাশি ব্যবস্থা। প্রতিটি বাড়িই সেই নর্দমা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিল।এবার নতুন এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, এই জনপরিকাঠামোই হয়তো মহেঞ্জোদাড়োতে ধনী-গরিবের বৈষম্য কমাতে সাহায্য করেছিল। ‘অ্যান্টিকুইটি’ পত্রিকায় প্রকাশিত গবেষণাটি করেছেন ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ববিদ অ্যাডাম গ্রিনের নেতৃত্বাধীন দল। তাঁরা সম্পদ বৈষম্য মাপতে ব্যবহার করেছেন ‘গিনি সহগ’ অর্থনীতিতে ব্যবহৃত হয়। যেহেতু সেই সময়ের আর্থিক নথি পাওয়া যায় না, তাই বাড়ির আকারকে সম্পদের সূচক হিসেবে ধরা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, মহেঞ্জোদাড়োর গিনি সহগ ছিল ০.৪৪, যা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি সমতাভিত্তিক সমাজের ইঙ্গিত দেয়। মিশর বা গ্রিসের মতো বিশাল প্রাসাদ বা রাজকীয় সমাধি তৈরির বদলে সিন্ধু সভ্যতায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল সাধারণ মানুষের সুবিধার ওপর। উন্নত নিকাশি ব্যবস্থা, পরিকল্পিত রাস্তা ও নাগরিক পরিষেবা সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। আর সেই কারণেই শহর সমৃদ্ধ হলেও ধনী-গরিবের ব্যবধান খুব বেশি বাড়েনি বলে মনে করছেন গবেষকেরা। তাঁদের মতে, জনসাধারণের জন্য সমান পরিকাঠামো তৈরির ধারণা হাজার হাজার বছর আগেই সিন্ধু সভ্যতায় দেখা গিয়েছিল।
সূত্র: Nautilus Magazine ; May ; 2026
