মাইটোকন্ড্রিয়া ও জৈব আলো-কণা 

মাইটোকন্ড্রিয়া ও জৈব আলো-কণা 

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ২৩ মে, ২০২৬

মাইটোকন্ড্রিয়া হল কোষের মধ্যে ঝিল্লি-সংলগ্ন ছোটো ছোটো জীবাঙ্গ। বেশির ভাগ কেন্দ্রক—যুক্ত কোষেই এটি থাকে। এর মূল কাজ হল অক্সিজেনের উপস্থিতিতে পুষ্টি-উপাদান ভেঙে শক্তির জোগান দেওয়া। এই কারণে মাইটোকন্ড্রিয়াকে বলা হয় দেহের শক্তি সরবরাহ কেন্দ্র বা পাওয়ার হাউস। কারণ, এগুলিই এ টি পি নামের শক্তি উৎপাদন করে, যা শরীরের প্রায় সব কাজ চালাতে সাহায্য করে। বিজ্ঞানীদের মতে, প্রায় ১৫০ কোটি বছর আগে মাইটোকন্ড্রিয়া ছিল স্বাধীন ব্যাকটেরিয়া। পরে তারা প্রাচীন কোষের সঙ্গে সহাবস্থানে যুক্ত হয় এবং সেই সম্পর্ক আজও অটুট রয়েছে। বর্তমানে মানুষের প্রতিটি কোষে শত শত থেকে হাজার হাজার মাইটোকন্ড্রিয়া থাকে। এবার প্রশ্ন উঠল, শক্তি উৎপাদনের পাশাপাশি মাইটোকন্ড্রিয়া কি একে অপরের সঙ্গে আলোর মাধ্যমে যোগাযোগও রক্ষা করে? দেখা গেছে, আমাদের শরীরের কোষগুলি প্রতি মুহূর্তে ক্ষীণ আলো নির্গত করে। না, আলংকারিক অর্থে নয়, একেবারে আক্ষরিক অর্থে। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, জীবন্ত কোষ এবং কোষের ভিতরে থাকা মাইটোকন্ড্রিয়া থেকে অত্যন্ত ক্ষীণ আলোকঝলক নির্গত হয়। এই আলোকে বলা হয় ‘বায়োফোটন’ বা জৈব আলো-কণা। যাবতীয় কোষের মধ্যে বিপাকক্রিয়ার উপজাতক হিসেবে এই অতি ক্ষীণ আলোর (ফোটনের) নিঃসরণ ঘটে দৃশ্য আলো আর অতিবেগুনি আলোর পাল্লার মধ্যে। এই জৈব আলো-কণাগুলি জৈব যোগাযোগ আর কোষ নিয়ন্ত্রণের এক প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার অঙ্গ। তীব্রতা অত্যন্ত কম বলে মানুষের স্বাভাবিক চোখে এটি ধরা পড়ে না। তবে বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে এটি মাপা সম্ভব। বহু দশক ধরেই বিজ্ঞানীরা বায়োফোটন নিয়ে গবেষণা করছেন। যুক্তরাজ্যের ওয়েস্টমিনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়-এর এক গবেষক মানবকোষ থেকে মাইটোকন্ড্রিয়া আলাদা করেন। এরপর তাদের একটি গুচ্ছকে চাপের মধ্যে রাখা হয়, আর অন্য গুচ্ছটিকে স্বাভাবিক চাপমুক্ত অবস্থায় রাখা হয়। এই দুই দলের মধ্যে কোনও রাসায়নিক বা শারীরিক সংযোগ ছিল না। তবুও গবেষকরা দেখেন, চাপের মধ্যে না থাকা মাইটোকন্ড্রিয়াগুলিও নিজেদের বিপাকীয় কার্যকলাপে পরিবর্তন আনছে। পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ করে জানা যায়, এই যোগাযোগ সম্ভবত রাসায়নিক পথে হচ্ছে না, হচ্ছে আলো-ভিত্তিক তড়িৎচুম্বক সংকেতের মাধ্যমে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বায়োফোটনের প্রকৃত ভূমিকা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বুঝতে আরও গবেষণার প্রয়োজন। নিঃসন্দেহে এটি গবেষণার এক অত্যন্ত আগ্রহজনক পথ খুলে দিল।

 

সূত্র: AstroPhilesz ; May ; 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fourteen − 14 =