সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিধসের বেশিরভাগই ঘটে সেইসব এলাকায়, যেখানে মানুষ জমির স্বাভাবিক অবস্থা বদলে দিয়েছে। তাই পাহাড়ি দুর্যোগকে শুধু প্রাকৃতিক ঘটনা হিসেবে নয়, অনেক ক্ষেত্রেই মানবসৃষ্ট বিপর্যয় হিসেবেও দেখা যায়। আর এর সবচেয়ে বড় মূল্য দেয় দরিদ্র দেশগুলি। ৪৬টি দেশের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রাস্তা, কৃষি, বসতি বা অন্যান্য ব্যবহারে বদলে যাওয়া পাহাড়ি অঞ্চলে মৃত্যুহার বেশি। আংকারা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সেকিন ফিদান দেখিয়েছেন, জমির পরিবর্তন যত বাড়ে, ভূমিধসে মৃত্যুও তত বাড়ে। এই প্রবণতা ছয় দশক ধরেই একই রকম। যদিও বৃষ্টি, ভূপ্রকৃতি ও আয়ের স্তরও এর উপর প্রভাব ফেলে, তবু জমির চরিত্রবদলই অন্যতম প্রধান কারণ। বনভূমি কাটা বা চারণভূমি তৈরি করলে মাটির দৃঢ়তা কমে যায়, শিকড়ের অভাবে মাটি আলগা হয়। আর রাস্তা কাটা, খনি বা নির্মাণকাজ ঢালকে আরও অস্থির করে তোলে। ২০০৪–২০১৬ সালে ৪,৮৬২টি ভূমিধসে ৫৫,৯৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার বড় অংশই ঘটেছে আগে থেকেই দুর্বল হয়ে পড়া এলাকায়। অর্থনৈতিক বৈষম্যও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে পাহাড়ি জমির চরিত্র মাত্র ৭% বদলেছে, যেখানে নিম্ন আয়ের দেশে প্রায় ৫০%। ধনী দেশে পরিকল্পনা ও অবকাঠামো উন্নত হওয়ায় ঝুঁকি কম, কিন্তু দরিদ্র দেশে জনসংখ্যার চাপ ও সীমিত সম্পদের কারণে মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসতি গড়ে তোলে। ১৯৬০–২০১৯ সালের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, আজকের মৃত্যুহার আসলে দীর্ঘদিনের জমি পরিবর্তনের ফল। দেশভেদে পার্থক্যও স্পষ্ট। নেপালে ঝুঁকি বেশি হলেও মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে কম, আর আফ্রিকার রুয়ান্ডায় জমির পরিবর্তন বেশি , মৃত্যুও বেশি। বৃষ্টি ও খাড়া ঢাল এখনও ভূমিধস ঘটানোর প্রধান কারণ, কিন্তু মানুষের কারণে জমির পরিবর্তনের সঙ্গে মৃত্যুর সম্পর্ক আরও শক্তিশালী। যদিও তথ্যের সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবু বার্তাটি পরিষ্কার—পাহাড়ি জমি স্থিতিশীল রাখা গেলে বহু প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। বন সংরক্ষণ, উন্নত রাস্তা, সঠিক নিকাশি ব্যবস্থা এবং জমির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি, বিশেষ করে দরিদ্র দেশগুলিতে । সব ভূমিধস ঠেকানো না গেলেও, আগাম পরিকল্পনা মৃত্যুহার অনেক কমাতে পারে। অর্থাৎ, ভূমিধসের মৃত্যু ভাগ্যের খেলা নয়। বরং মানুষের সিদ্ধান্তই অনেক সময় নির্ধারণ করে তা কতটা প্রাণঘাতী হবে।
সূত্র: Science Advances.; April, 2026
