যুক্তরাষ্ট্রে বিপন্ন বিজ্ঞানের স্বাধীনতা 

যুক্তরাষ্ট্রে বিপন্ন বিজ্ঞানের স্বাধীনতা 

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ৬ মে, ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বৈজ্ঞানিক নীতিনির্ধারণ ও গবেষণা অর্থ জোগান ব্যবস্থাকে ঘিরে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ২০২৬ সালের ২৪ এপ্রিল হোয়াইট হাউস হঠাৎ করে ন্যাশনাল সায়েন্স বোর্ড (NSB)-এর সব সদস্যকে অপসারণ করেছে। এই বোর্ডই ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন (NSF)-এর তদারকি করে, যা বছরে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার গবেষণা অনুদান দেয়। NSB মার্কিন বিজ্ঞানের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, বড় গবেষণা প্রকল্প অনুমোদন এবং বিজ্ঞান ও প্রকৌশল নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মহাকাশ গবেষণা, জলবায়ু বিজ্ঞান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে শুরু করে নতুন প্রযুক্তি – বহু ক্ষেত্রেই এই বোর্ডের প্রভাব রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের গুরুত্ব শুধু প্রশাসনিক নয়। বোর্ডটি এমনভাবে গড়ে তোলা হয়েছিল যাতে তা রাজনৈতিক পরিবর্তন নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করতে পারে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মার্কিন বিজ্ঞান নীতির অন্যতম স্থপতি ভ্যানিভার বুশ মনে করতেন, বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির জন্য স্থায়িত্ব, স্বাধীনতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি। সেই ধারণার ভিত্তিতেই ১৯৫০ সালে NSF গঠিত হয়। বোর্ড সদস্যদের সাধারণত ছয় বছরের ধাপে ধাপে মেয়াদ দেওয়া হয়, যাতে কোনও এক প্রশাসন একসঙ্গে পুরো বোর্ড বদলে দিতে না পারে। তাই একযোগে সব সদস্যকে সরিয়ে দেওয়া সেই ঐতিহাসিক কাঠামো থেকে বড় বিচ্যুতি বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। সমালোচকদের আশঙ্কা, এই পরিবর্তনের প্রভাব বহু বছর ধরে পড়বে। কোন গবেষণা প্রকল্প অর্থ পাবে, কোন নতুন ক্ষেত্র অগ্রাধিকার পাবে, কোথায় বিনিয়োগ বাড়বে।র, এসব সিদ্ধান্তে বোর্ডের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে বোর্ডের গঠন বদলালে বিজ্ঞান গবেষণার ভবিষ্যৎ দিকও বদলে যেতে পারে।

 

সূত্র: Theory of everything; April; 2026.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × 2 =