আমাদের সৌরজগতের মতো একক নক্ষত্রের চারপাশেই গ্রহ সহজে তৈরি হয়। তবে নতুন গবেষণা বলছে, দ্বৈত নক্ষত্র বা যুগ্ম তারাকে ঘিরেও গ্রহ তৈরি হওয়া শুধু সম্ভবই নয়, অনেক ক্ষেত্রে আরও সহজ। ব্রিটেনের ইউনিভার্সিটি অব ল্যাঙ্কাশায়ারের জ্যোতিঃপদার্থবিদরা এই গবেষণাটি করেছেন। আমাদের ছায়াপথে যুগ্ম নক্ষত্র খুবই সাধারণ ব্যাপার। এতদিন মনে করা হত, দুই নক্ষত্রের টানাপোড়েনের কারণে তাদের চারপাশে থাকা গ্যাস ও ধূলিকণার চাকতি অস্থির হয়ে পড়ে, ফলে গ্রহ গঠন কঠিন হয়। তাই স্টার ওয়ার্স-এর ট্যাটুইনের মতো দুই সূর্যওয়ালা জগতকে অনেকেই বিরল কল্পবিজ্ঞান বলেই ভাবতেন। এই নতুন গবেষণায় আধুনিক কম্পিউটার সিমুলেশন ব্যবহার করে তরুণ যুগ্ম নক্ষত্রের চারপাশের গ্যাসের চাকতি বিশ্লেষণ করা হয়। তাতে দেখা যায়, নক্ষত্রদ্বয়ের একেবারে কাছের অংশে একটি ‘নিষিদ্ধ অঞ্চল’ থাকে, যেখানে প্রবল মহাকর্ষীয় অস্থিরতার কারণে গ্রহ তৈরি হওয়া কঠিন। কিন্তু সেই অঞ্চলটি পেরোলেই চিত্র বদলে যায়। বাইরের অংশে চাকতিটি নিজের মহাকর্ষে ভেঙে বহু অংশে ভাগ হয়ে দ্রুত নতুন গ্রহ তৈরি করতে পারে। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় গ্র্যাভিটেশনাল ইনস্টেবিলিটি। গবেষক ড. ম্যাথিউ টিসডেলের কথায়, “যুগ্ম নক্ষত্রের খুব কাছে পরিবেশটি অত্যন্ত অশান্ত। কিন্তু কিছুটা দূরে গেলেই সেটি গ্রহ তৈরির আদর্শ ক্ষেত্র হয়ে ওঠে।‘’ তাছাড়া একক নক্ষত্রের তুলনায় যুগ্ম নক্ষত্রের চাকতিতে বেশি সংখ্যায় গ্রহ তৈরি হতে পারে। এদের মধ্যে অনেকগুলো আবার বৃহস্পতির চেয়েও বড় গ্যাস দানব হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। কিছু গ্রহ নিজস্ব কক্ষপথ ছেড়ে মহাশূন্যে অবাধে ভেসে বেড়ানো গ্রহে পরিণত হতে পারে। গবেষক ড. দিমিত্রিস স্টামাটেলোস বলেন, “একসময় যুগ্ম নক্ষত্রকে গ্রহ গঠনের প্রতিকূল মনে করা হত। এখন দেখা যাচ্ছে, এগুলো বরং অত্যন্ত উৎপাদনশীল পরিবেশ হতে পারে।‘’ এখন পর্যন্ত ৫০টিরও বেশি সার্কামবাইনারি এক্সোপ্ল্যানেট বা দুই নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণকারী গ্রহ আবিষ্কৃত হয়েছে। নতুন এই গবেষণা ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করছে, এরা কীভাবে তৈরি হয় এবং টিকে থাকে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ALMA, জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ এবং ভবিষ্যতের এক্সট্রিমলি লার্জ টেলিস্কোপ (ELT) এই ধরনের আরও বহু জগত খুঁজে দিতে পারে।
সূত্র: https://phys.org/news/2026
