একসময় লাদাখে বৃষ্টি ছিল বিরল ঘটনা। তাই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এখানকার মানুষ কাদা, কাঠ ও ঘাস দিয়ে তৈরি ঐতিহ্যবাহী বাড়িতেই বাস করতেন। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এখন সেই চিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে। লেহ-এর বাসিন্দা ডেচেন অ্যাংমো জানান, “তিন বছর আগে তাঁদের নতুন বাড়ি পুরোপুরি ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু গত বছরের টানা ভারী বৃষ্টিতে কাদার ছাদ ও দেওয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এ বছর বাধ্য হয়ে প্রায় ২.৮ লক্ষ টাকা খরচ করে টিনের ছাদ বসাতে হয়েছে”। তাঁর কথায়, কাদার বাড়ি এখনও শীতকালে উষ্ণ এবং গ্রীষ্মে শীতল রাখে, কিন্তু আগের মতো তা আর বৃষ্টির ধকল সহ্য করতে পারছে না। স্থানীয়দের মতে, আগে গ্রীষ্মে বৃষ্টি খুব কম হতো, আর শীতে প্রচুর তুষারপাত দেখা যেত। এখন পরিস্থিতি উল্টো। গ্রীষ্মে টানা ভারী বৃষ্টি হচ্ছে, আর শীতে তুষারপাত কমে যাচ্ছে। ফলে ঐতিহ্যবাহী কাদার ছাদ চুইয়ে জল পড়ছে এবং অনেকেই বাধ্য হচ্ছেন টিন বা কংক্রিটের ছাদ ব্যবহার করতে। ভারতের আবহাওয়া দফতরের লেহ কেন্দ্রের পরিচালক সোনম লোটাস বলেন, “বছরে মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ খুব বেশি না বাড়লেও, স্বল্প সময়ে অত্যন্ত ভারী স্থানীয় বৃষ্টির ঘটনা বেড়েছে। এতে শুধু বাড়িঘরই নয়, আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিও বাড়ছে”।
এই পরিবর্তন নিয়ে উদ্বিগ্ন ঐতিহ্য সংরক্ষণবিদরাও। তাঁদের আশঙ্কা, জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাওয়াতে গিয়ে যদি কাদা ও স্থানীয় নির্মাণসামগ্রীর বদলে টিন ও কংক্রিটের ব্যবহার বাড়তে থাকে, তাহলে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে লাদাখের শতাব্দীপ্রাচীন স্থাপত্য ঐতিহ্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক উপকরণের উপর নির্ভর না করে ঐতিহ্যবাহী নির্মাণশৈলীকে আরও জলবায়ু-সহনশীল করে তোলাই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।
সূত্র: Down To Earth; July ; 2026
