শিশু মহাবিশ্বের ৩১টি নতুন কোয়াসার আবিষ্কার

শিশু মহাবিশ্বের ৩১টি নতুন কোয়াসার আবিষ্কার

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ২৩ জুলাই, ২০২৬

৩১টি নতুন কোয়াসার আবিষ্কার করেছে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার (ESA) ইউক্লিড মহাকাশ টেলিস্কোপ। এর মধ্যে দুটি এখনও পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে প্রাচীন কোয়াসার হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়েছে। এই আবিষ্কার মহাবিশ্বের প্রথম দিকের গ্যালাক্সি ও অতিভারী কৃষ্ণগহ্বর (সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল) কীভাবে এত দ্রুত তৈরি হয়েছিল, সেই রহস্য উন্মোচনে বিশেষ সহায়ক হবে। কোয়াসার কি? এগুলি গ্যালাক্সির এমন একটি স্বল্পস্থায়ী পর্যায়, যখন কেন্দ্রে থাকা অতিভারী কৃষ্ণগহ্বরে বিপুল পরিমাণ পদার্থ সর্পিল পথে ঢুকে প্রচণ্ড শক্তি বিকিরণ করে। আর তখন গ্যালাক্সির কেন্দ্র এত উজ্জ্বল হয়ে ওঠে যে, পুরো গ্যালাক্সির আলোকে শত থেকে হাজার গুণ ছাপিয়ে যেতে পারে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরেই মহাবিশ্বের আদি কোয়াসারগুলোর সন্ধান করছেন। কিন্তু এগুলো অত্যন্ত বিরল এবং পৃথিবী থেকে এত দূরে যে শনাক্ত করা কঠিন। ২০২৩ সালে উৎক্ষিপ্ত ইউক্লিড টেলিস্কোপ সেই কাজেই নতুন সাফল্য দেখিয়েছে। এটি এমন সময়কার কোয়াসার খুঁজে পেয়েছে, যখন মহাবিশ্বের বয়স ছিল বর্তমানের মাত্র ৫ শতাংশ। নেদারল্যান্ডসের লেইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড্যামিং ইয়াং বলেন, এই কোয়াসারগুলো মহাবিশ্বের শৈশবের প্রতিনিধি। এগুলোর মাধ্যমে জানা যাবে, কীভাবে প্রথম অতিভারী কৃষ্ণগহ্বর ও বিশাল গ্যালাক্সিগুলো এত দ্রুত গড়ে উঠেছিল। নতুন আবিষ্কারের মধ্যে ১২টি কোয়াসারের লাল অপসারণ মাত্রা ৭-এর বেশি, অর্থাৎ এগুলো সৃষ্টি হয়েছিল মহাবিশ্বের প্রথম ৭৭ কোটি বছরের মধ্যে। সবচেয়ে প্রাচীন দুটি কোয়াসারের লাল অপসারণ মাত্রা যথাক্রমে ৭.৭৭ ও ৭.৬৯। এগুলো পৃথিবী থেকে ১৩ বিলিয়নেরও বেশি আলোকবর্ষ দূরে এবং মহাবিশ্বের জন্মের মাত্র ৬৭ কোটি বছর পরের সময়ের। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার গবেষক আন্তোনিও লা মারকা বলেন, এত প্রাচীন কোয়াসারের সংখ্যা এই আবিষ্কারের ফলে দ্বিগুণেরও বেশি হল। আগে এমন কয়েকটি কোয়াসার খুঁজে পেতে বিজ্ঞানীদের এক দশকের বেশি সময় লেগেছিল, অথচ ইউক্লিড মাত্র এক বছরেই তার চেয়েও বেশি কোয়াসার খুঁজে পেয়েছে। গবেষকেরা মনে করছেন, এই কোয়াসারগুলো মহাবিশ্বের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়—রিআয়োনাইজেশন যুগের সাক্ষী। এ সময়ই অন্ধকার ও শীতল প্রাথমিক মহাবিশ্ব ধীরে ধীরে আলো ও আয়নিত পদার্থে ভরে ওঠে এবং আধুনিক মহাবিশ্বের ভিত্তি তৈরি হয়। ইউক্লিডের বিস্তৃত আকাশ সমীক্ষা শেষ হলে এটি আকাশের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি অঞ্চল পর্যবেক্ষণ করবে। একই সঙ্গে বিলিয়ন বিলিয়ন গ্যালাক্সি, অসংখ্য কোয়াসার এবং মহাবিশ্বের রহস্যময় ডার্ক ইউনিভার্স সম্পর্কে নতুন তথ্য তুলে আনবে।

 

সূত্র: The European Space Agency; July ; 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two × three =