দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রচলিত ধারণা ছিল, মানুষের অন্তঃকর্ণের শ্রবণ-সংবেদী কেশকোষ একবার নষ্ট হয়ে গেলে তা আর নতুন করে তৈরি হয় না। জোর শব্দ, আঘাত বা বার্ধক্যের কারণে এই কোষগুলির ক্ষতি হলে শ্রবণশক্তি স্থায়ীভাবে হ্রাস পেতে পারে। এ সমস্যার সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা জিন থেরাপির মাধ্যমে ককলিয়ার নিষ্ক্রিয় সহায়ক কোষকে নতুন কার্যকর হেয়ার সেলে রূপান্তরের একটি পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছেন। প্রাথমিক গবেষণায় দেখা গেছে, এই নতুন কোষগুলি কয়েক মাসের মধ্যে পরিণত হয়ে শ্রবণ স্নায়ুর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারে, যা স্বাভাবিক শ্রবণশক্তি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করতে পারে। যদিও এই প্রযুক্তি এখনও গবেষণা ও ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে, তবু এটি ভবিষ্যতে শ্রবণশক্তি পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন। এদিকে, নতুন জৈবিক চিকিৎসা পদ্ধতি সফল হলে প্রচলিত শ্রবণযন্ত্র-নির্ভর বাজারে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে শিল্পক্ষেত্রের প্রভাব বা বাধা নিয়ে যেসব দাবি সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে, সেগুলির পক্ষে বর্তমানে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই এ ধরনের দাবি সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: University of Arizona College of Medicine, Nature Medicine, 2024
