সমুদ্রের উষ্ণতায় বিবর্ণ হয়ে যাওয়া প্রবাল কি আবার প্রাণ ফিরে পেতে পারে সুস্থ প্রতিবেশীর স্পর্শে? সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, পারে। সুস্থ প্রবালের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ ঘটিয়ে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই বিবর্ণ প্রবালের পুনরুজ্জীবন সম্ভব।
সমুদ্রের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে প্রবালের শরীরে বসবাসকারী Symbiodiniaceae গোষ্ঠীর সালোকসংশ্লেষকারী আণুবীক্ষণিক শৈবাল বেরিয়ে যায়। ফলে প্রবাল তার স্বাভাবিক রং হারিয়ে সাদা হয়ে পড়ে। এই ঘটনাকে বলা হয় প্রবাল শ্বেতায়ন বা কোরাল ব্লিচিং। শৈবাল থেকে প্রাপ্ত পুষ্টি হারিয়ে প্রবাল ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ে, এমনকি মারাও যেতে পারে।
২০২৫ সালের গোড়ায় ক্যালিফোর্নিয়ার হপকিন্স মেরিন স্টেশনে বিজ্ঞানী স্টিফেন পালুম্বি হঠাৎই লক্ষ করেন, একটি সুস্থ ও একটি বিবর্ণ প্রবালখণ্ড পরস্পরকে স্পর্শ করে থাকায় সুস্থ প্রবালের রং বিবর্ণ প্রবালে ছড়িয়ে পড়ছে। ঘটনাটি যাচাই করতে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড্যানি কলিন্স দশ জোড়া প্রবালখণ্ড নিয়ে পরীক্ষা করেন। পাঁচ জোড়াকে পরস্পর স্পর্শ করিয়ে রাখা হয়, বাকিগুলির মধ্যে রাখা হয় সামান্য ব্যবধান।
সায়েন্স অ্যাডভ্যান্সেস পত্রিকায় ১৪ অক্টোবর ২০২৬-এ এই সাম্প্রতিক গবেষণার বিবরণটি প্রকাশিত হয়েছে। দেখা যায়, ছুঁয়ে থাকা বিবর্ণ প্রবালটি আট সপ্তাহের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছে। দ্বিতীয় সপ্তাহ নাগাদ তাদের শরীরে উপকারী শৈবালের সংখ্যা প্রতি চার দিনে দ্বিগুণ হতে থাকে। মাত্র এক সপ্তাহ সুস্থ প্রবালের সংস্পর্শে থাকার পর আলাদা করে দিলেও বিবর্ণ প্রবালের পুনরুজ্জীবন অব্যাহত থাকে। বিপরীতে, সরিয়ে রাখা প্রবালগুলি ২০ সপ্তাহের মধ্যে মারা যায়।
অণুবীক্ষণ যন্ত্রে দেখা যায়, দুই প্রবালের মধ্যে কোষকলার এক জীবন্ত সেতু তৈরি হয়েছে। তারই মাধ্যমে উপকারী শৈবাল স্থানান্তরিত হতে থাকে। তবে এই প্রক্রিয়া কার্যকর হয় কেবল একই জিনগত পরিচয়ের দুটি প্রবালখণ্ডের মধ্যে।
সমুদ্রের উষ্ণতা বৃদ্ধির মূল সমস্যা দূর না হলেও, প্রবালের এই আশ্চর্য পুনরুজ্জীবন-পদ্ধতি ভবিষ্যতে বিপন্ন প্রবালপ্রাচীর সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।
সূত্র: doi: https://doi.org/10.1038/d41586-026-03266-x
