কিছু কিছু ধাতুতে বিদ্যুৎ প্রবাহের আচরণ, প্রচলিত ধাতুর মতন হয় না। এরকম ধাতুর অদ্ভুত এই বৈশিষ্ট্যের নেপথ্যে আছে ইলেকট্রনগুলির কোয়ান্টাম এনট্যাঙ্গলমেন্ট। অর্থাৎ দুটি কণার মধ্যে এমন এক গভীর কোয়ান্টাম সম্পর্ক থাকে যা আলাদা আলাদা কণা হিসেবে তাদের বর্ণনা করার কাজ কঠিন করে তোলে। অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি-র পদার্থবিদরা বলছেন, ‘স্ট্রেঞ্জ মেটাল’ নামে পরিচিত এই পদার্থগুলির বৈদ্যুতিক রোধ সাধারণ ধাতুর প্রচলিত তত্ত্ব দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। গবেষকরা সেরিয়াম–প্যালাডিয়াম–সিলিকন নামের একটি হেভি-ফার্মিয়ন ধাতুর উপর ফ্রান্সের লা-এ-লাজভ্যাঁ ইনস্টিটিউটে ইনইলাস্টিক নিউট্রন স্ক্যাটারিং পরীক্ষা চালান। এরপর সাধারণ বিশ্লেষণের পাশাপাশি তাঁরা ব্যবহার করেন কোয়ান্টাম ফিশার ইনফরমেশন। এটি কোয়ান্টাম অবস্থার পরিবর্তনশীলতা পরিমাপের একটি পদ্ধতি। বিশ্লেষণে দেখা যায়, পদার্থটির আচরণকে আলাদা আলাদা ইলেকট্রন দিয়ে ব্যাখ্যা করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ অন্তত ন’টি কোয়ান্টাম সত্তা পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে এরকম সমষ্টিগতভাবে আচরণ করছে। গবেষকদের মতে, এটি ‘স্ট্রেঞ্জ মেটাল’-এ বহু-কণার কোয়ান্টাম এনট্যাঙ্গলমেন্টের সরাসরি প্রমাণ। আর এই দশাই এই অদ্ভুত পদার্থগুলির প্রকৃতি বোঝার নতুন পথ খুলে দেয়। তাছাড়া স্ট্রেঞ্জ মেটালকে উচ্চ-তাপমাত্রার অতি পরিবাহিতা বা সুপারকন্ডাক্টিভিটির সম্ভাব্য ‘মূল’ দশা বলে মনে করেন বিজ্ঞানীরা। তবে এই ফলাফল অন্য ধরনের স্ট্রেঞ্জ মেটালেও একইভাবে প্রযোজ্য কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে উচ্চ-তাপমাত্রার অতি পরিবাহী পদার্থ, প্রবলভাবে পরস্পর-সম্পর্কিত কোয়ান্টাম পদার্থ, এমনকি কোয়ান্টাম প্রযুক্তি বোঝার কাজেও এটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: Physics World; July ; 2026
