জিন থেরাপি, জৈবপ্রযুক্তি এবং জিনোম সিকোয়েন্সিং- এর মতো আধুনিক বিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হল নিরাপদ ও কার্যকরভাবে জিন উপাদান (ডি এন এ বা আর এন এ) কোষের ভেতরে পৌঁছে দেওয়া। সম্প্রতি ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের যৌথ প্রচেষ্টায় এই সমস্যার একটি নতুন ও সম্ভাবনাময় সমাধান সামনে এসেছে। এর নাম স্বয়ং-যোজিত পলিমার সহযোগে জিন ডেলিভারি। এই নতুন পদ্ধতিতে তৈরি পলিমার বাহকগুলো ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় আগের পদ্ধতির তুলনায় বেশি কার্যকর এবং কম বিষাক্ত বলে জানা গেছে। সাধারণত কোষে জিন প্রবেশ করানোর জন্য ভাইরাল এবং অ-ভাইরাল—এই দুই ধরনের পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। ভাইরাল পদ্ধতিটা শক্তিশালী হলেও এতে নিরাপত্তা এবং উৎপাদন সংক্রান্ত ঝুঁকি থাকে। তাই বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে অ-ভাইরাল বিকল্পের দিকে ঝুঁকছেন, যেখানে পলিমার বা লিপিড ন্যানোকণা ব্যবহার করে কোষের মধ্যে ডি এন এ বা আর এন এ পৌঁছে দেওয়া হয়—যাকে বলা হয় ‘ট্রান্সফেকশন’ ।
তবে বর্তমান অ-ভাইরাল পদ্ধতিগুলির একটি বড় সীমাবদ্ধতা হল কার্যকারিতা ও বিষাক্ততার মধ্যে ভারসাম্য রাখা। এই সমস্যার সমাধানে গবেষকরা ব্যবহার করেছেন একটি উন্নত প্রযুক্তি—Polymerization-Induced Electrostatic Self-Assembly (PIESA)। এই পদ্ধতিতে পলিমার তৈরি হওয়ার সময়ই তা ডি এন এ বা আর এন এ- র সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায় এবং “পলিপ্লেক্স” নামের ন্যানো-কমপ্লেক্স তৈরি করে। পলিপ্লেক্স আসলে ধনাত্মক চার্জযুক্ত পলিমার এবং ঋণাত্মক চার্জযুক্ত জিনগত উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত, যা কোষে সহজে প্রবেশ করতে সাহায্য করে।
প্রচলিত পদ্ধতিতে আগে পলিমার তৈরি করে পরে ডি এন এ বা আর এন এ-র সঙ্গে মেশানো হয়, যা প্রায়ই স্থিতিহীনতা এবং কোষের জন্য বিষাক্ততা বাড়ায়। কিন্তু PIESA পদ্ধতিতে “একই হাঁড়ি বা one-pot” প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একই সঙ্গে পলিমার তৈরি এবং পলিপ্লেক্স গঠন হয়। এতে পলিপ্লেক্সের আকার, গঠন এবং বৈশিষ্ট্য আরও নিয়ন্ত্রিতভাবে তৈরি করা সম্ভব হয়, পাশাপাশি জটিল পরবর্তী প্রক্রিয়ার প্রয়োজনও কমে যায়।
গবেষণার ফল অনুযায়ী, এই নতুন পলিপ্লেক্সগুলো কোষের জন্য কম ক্ষতিকর এবং জিনগত প্রকাশরূপ বাড়াতে আরও কার্যকর। ফলে কোষের সজীবতা বজায় রেখে জিন ডেলিভারি সম্ভব হয়। এটি ভবিষ্যতের চিকিৎসা প্রযুক্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গবেষকদের মতে, এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে আরও নির্ভরযোগ্য, এবং নিরাপদ অ-ভাইরাল জিন ডেলিভারি সিস্টেম তৈরি করতে সাহায্য করতে পারে। এর ফলে কেবল গবেষণাগারেই নয়, বাস্তব চিকিৎসা ক্ষেত্রেও জিন-ভিত্তিক প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়বে। সহজ ভাষায়, এই উদ্ভাবন জিন থেরাপিকে আরও কার্যকর ও সবার নাগালের মধ্যে নিয়ে আসার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
সূত্র: Maria A. Castillo et al, Polymerization-Induced Electrostatic Self-Assembly Enables Noncytotoxic Polyplex Formation for Gene Delivery, ACS Materials Letters (2026). DOI: 10.1021/acsmaterialslett.6c00077
