হানাবাড়ি না অশ্রুত শব্দের খেলা?

হানাবাড়ি না অশ্রুত শব্দের খেলা?

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ৭ মে, ২০২৬

আমরা প্রতিদিন এমন অনেক শব্দের মধ্যে থাকি, যা কানে শোনা যায় না। এর মধ্যে ২০ হার্টজের নীচের অতি-নিম্ন কম্পাঙ্কের শব্দকে বলা হয় ইনফ্রাসাউন্ড। বজ্রঝড়, কারখানা, যানজট, পুরনো ভবনের পাইপলাইন বা ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা থেকে এই রকম শব্দ তৈরি হতে পারে। অনেক তথাকথিত “ভূতুড়ে’’ জায়গায় অস্বস্তি বা ভয়ের অনুভূতির পেছনে এই ইনফ্রাসাউন্ড কাজ করতে পারে। একটি গবেষণায় ৩৬ জন স্বেচ্ছাসেবীকে আলাদা ঘরে বসিয়ে কখনও শান্ত, কখনও অস্বস্তিকর সঙ্গীত শোনানো হয়। কিছু সময় গোপনে ১৮ হার্টজের ইনফ্রাসাউন্ডও বাজানো হয়। পরে তাঁদের অনুভূতি ও লালার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। ফলাফলে দেখা যায়, ইনফ্রাসাউন্ড শোনা অংশগ্রহণকারীদের কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে গেছে। এই হরমোন চাপ, উৎকণ্ঠা ও বিরক্তির সঙ্গে সম্পর্ক-যুক্ত। অনেকে তখন বেশি বিরক্তি অনুভব করেছেন এবং সঙ্গীতকে বেশি বিষণ্ণ বলে মনে করেছেন। তাঁরা বুঝতেই পারেননি কখন ইনফ্রাসাউন্ড বাজছিল। অর্থাৎ, কানে না শোনা গেলেও শরীর তার প্রভাব অনুভব করেছে। এমন ঘটনা আগেও দেখা গেছে। ১৯৮০-র দশকে ব্রিটিশ প্রকৌশলী ভিক ট্যান্ডি এক কারখানায় অদ্ভুত ছায়া দেখতেন। পরে জানা যায়, একটি ফ্যান থেকে ইনফ্রাসাউন্ড তৈরি হচ্ছিল। ফ্যান বন্ধ করার পর সেই অভিজ্ঞতাও থেমে যায়। বিজ্ঞানীদের মতে, অনেক সময় “ভূতের উপস্থিতি’’ বলে যা মনে হয়, তা আসলে পরিবেশের অদৃশ্য কম্পনের প্রভাব হতে পারে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত করতে আরও বড় গবেষণা প্রয়োজন। তাই পুরনো বাড়িতে হঠাৎ গা ছমছম করলে, তার কারণ ভূত নয়, হতে পারে নষ্ট পাইপলাইন বা পুরনো যন্ত্রের শব্দ।

 

সূত্র: Popular Science; April, 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

14 − nine =