২০২৬ সালের নভেম্বরের একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তের দিকে এগোচ্ছে মানবজাতির সবচেয়ে দূরবর্তী দূত। ভয়েজার -১ এতটাই দূরে পৌঁছাতে চলেছে যে, পৃথিবী থেকে পাঠানো একটি রেডিও সংকেত তার কাছে পৌঁছাতে লাগবে পুরো ২৪ ঘণ্টা। অর্থাৎ, কোনো নির্দেশ পাঠানো এবং তার উত্তর ফিরে পেতে নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানীদের অপেক্ষা করতে হবে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা/দুই দিন।
এই দূরত্বকে বলা হয় এক আলোক দিবস, প্রায় ২৫.৯ বিলিয়ন কিলোমিটার। কল্পনা করা কঠিন, এটি সূর্য থেকে প্লুটোর দূরত্বেরও চার গুণ বেশি। ২০১২ সালেই ভয়েজার- ১ সৌরজগতের সীমানা, অর্থাৎ হেলিওস্ফিয়ার পেরিয়ে আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাশূন্যে প্রবেশ করেছে। যেখানে সূর্যের প্রভাব প্রায় নেই বললেই চলে।
অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, ১৯৭০-এর দশকের প্রযুক্তি আর ধীরে ধীরে ক্ষীয়মান শক্তির উৎস নিয়েও এই মহাকাশযান এখনও সক্রিয়। এখনও পাঠাচ্ছে অমূল্য সব তথ্য, তারাদের মধ্যবর্তী রহস্যময় পরিসর সম্পর্কে। ঘণ্টায় প্রায় ৩৮,০০০ মাইল গতিতে ছুটে চলা এই ক্ষুদ্র দূতটি বহন করছে বিখ্যাত সোনার রেকর্ড। যেখানে সংরক্ষিত আছে পৃথিবীর শব্দ, ছবি আর মানব সভ্যতার গল্প।
নভেম্বরের এই মাইলফলক যেন শুধুই দূরত্বের হিসাব নয়, মানুষের অধ্যবসায় আর কৌতূহলেরও এক প্রতীক। এক আলোক দিবস পার করার পরও ভয়েজার ১ তার নিঃশব্দ যাত্রা চালিয়ে যাবে, অজানা মহাশূন্যের গভীরে। আশ্চর্যের বিষয় হল, আরও প্রায় ৪০,০০০ বছর পর্যন্ত এটি কোনো নক্ষত্রের কাছাকাছি পৌঁছাবে না। এই ছোট্ট মহাকাশযানটি মহাবিশ্বের গহীন অন্ধকারে মানবতার এক চিরন্তন বার্তা বহন করে চলেছে।
সুত্র : Astro Universee
