২০২৬ সালের আইজ্যাক নিউটন পদক পেলেন ইগ্নাসিও সিরাক

২০২৬ সালের আইজ্যাক নিউটন পদক পেলেন ইগ্নাসিও সিরাক

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ২৫ অক্টোবর, ২০২৬

কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, কোয়ান্টাম সিমুলেশন এবং নিরাপদ কোয়ান্টাম যোগাযোগের তাত্ত্বিক ভিত্তি নির্মাণে অসামান্য অবদানের জন্য ২০২৬ সালের আইজ্যাক নিউটন পদক ও পুরস্কার পেলেন স্পেনের বিশিষ্ট কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানী ইগ্নাসিও সিরাক। জার্মানির গার্শিংয়ে অবস্থিত ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট অব কোয়ান্টাম অপটিক্সের এই বিজ্ঞানী আধুনিক কোয়ান্টাম তথ্যবিজ্ঞানের অন্যতম পথিকৃৎ। ইনস্টিটিউট অব ফিজিক্স প্রতি বছর পদার্থবিজ্ঞানে বিশ্বমানের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রদান করে।

১৯৬৫ সালে স্পেনের বার্সেলোনায় জন্ম সিরাকের। তিনি ১৯৯১ সালে মাদ্রিদের কমপ্লুটেন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচ ডি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ইউনিভার্সিটি অব কাস্তিয়া-লা মাঞ্চায় কাজ করেন। ১৯৯৬ সালে অস্ট্রিয়ার ইনসব্রুক বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। ২০০১ সালে তিনি ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট অব কোয়ান্টাম অপটিক্সের পরিচালক হন।

সিরাকের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অবদানগুলির একটি হলো কোয়ান্টাম কম্পিউটার নির্মাণের একটি বাস্তবসম্মত তাত্ত্বিক পদ্ধতি উদ্ভাবন। ১৯৯০-এর দশকে তিনি মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী পিটার জোলারের সঙ্গে যৌথভাবে আয়নকে বৈদ্যুতিক ক্ষেত্রের সাহায্যে বন্দি করে রেখে (ট্র্যাপড আয়ন) কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরির প্রস্তাব দেন। সিরাক–জোলার প্রস্তাব নামে পরিচিত এই ধারণা কোয়ান্টাম কম্পিউটারের তাত্ত্বিক সম্ভাবনাকে পরীক্ষাগারে বাস্তবায়নের পথ দেখায়। বর্তমানে ‘খাঁচা- বন্দি’ (ট্র্যাপড) আয়ন প্রযুক্তি কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি।

এ ছাড়া, নিয়ন্ত্রিত কোয়ান্টাম বহু-কণা ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে জটিল ভৌত প্রক্রিয়ার অনুকরণ বা সিমুলেশন করার সম্ভাবনা দেখিয়েছেন তিনি। এর সাহায্যে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন এবং পদার্থবিজ্ঞানের উপাদানবিজ্ঞান-সংক্রান্ত কঠিন কঠিন সমস্যার সমাধানে নতুন দিশা পাওয়া যায়। দীর্ঘ দূরত্বে কোয়ান্টাম যোগাযোগের ক্ষেত্রেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। বিশেষত, কোয়ান্টাম রিপিটার-এর ধারণা দূরত্ব বৃদ্ধির সঙ্গে সংকেতের ক্ষয় ও অন্যান্য ত্রুটি সত্ত্বেও কোয়ান্টাম এনট্যাঙ্গলমেন্ট ছড়িয়ে দেওয়ার পথ তৈরি করে।

পুরস্কার পেয়ে সিরাক জানান, এই সম্মান পেয়ে তিনি গভীরভাবে আপ্লুত। দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে কাজ করা সহকর্মীদের অবদানও তিনি বিশেষভাবে স্মরণ করেন। আইওপির সভাপতি পল হাওয়ার্থের মতে, সিরাকের গবেষণা আধুনিক কোয়ান্টাম তথ্যবিজ্ঞানের ভিত্তি মজবুত করেছে এবং তাঁর প্রভাব পরবর্তী প্রজন্মের গবেষকদের মধ্যেও প্রতিফলিত হয়েছে।

এর আগে ২০১৩ সালে উলফ পুরস্কার এবং ২০১৮ সালে ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক পদক পেয়েছেন সিরাক। ২০২৬ সালের এই পুরস্কারের অন্য প্রাপকদের মধ্যে রয়েছেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সারা বোন্ডিক এবং পোর্টসমাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক নাটালি লাইনস। সিরাকের এই স্বীকৃতি মৌলিক পদার্থবিজ্ঞানের গবেষণা কীভাবে ভবিষ্যতের কম্পিউটিং, যোগাযোগ ও প্রযুক্তির নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করতে পারে, তারই তাৎপর্যপূর্ণ দৃষ্টান্ত।

 

সূত্র : Quantum physicist Ignacio Cirac awarded 2026 Isaac Newton Medal and Prize,physics world,12th oct.2026.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two − two =